অপরাধ
১৯৩ কেজি গাঁজা উদ্ধার মামলায় ১২ ও ১০ বছরের কারাদণ্ড, আসানসোল আদালতের ঐতিহাসিক রায়

Nirbhik Bangla Photo
বাণিজ্যের শহর হিসেবে পরিচিত শিল্পাঞ্চল আসানসোলে মাদক পাচার চক্রের বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক ও দৃষ্টান্তমূলক রায় দিল আদালত। আজ, ৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে, পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলের এনডিপিএস (NDPS) অ্যাক্টের স্পেশাল কোর্ট কাম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জাজ, ৩য় আদালতের মাননীয় বিচারক এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাদক মামলার রায়ে তিন অভিযুক্তকে কঠোর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন। ১৯৮৫ সালের কঠোর এনডিপিএস অ্যাক্টের ২০(বি)(আইআই)(সি), ২৫ এবং ২৯ ধারায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় এই কড়া সাজা ঘোষণা করা হয়, যা এই অঞ্চলে মাদক কারবারিদের মনে গভীর ভীতি সঞ্চার করবে বলে মনে করছেন আইনি বিশেষজ্ঞরা। আসানসোল উত্তর থানার মামলা নম্বর ৩৬৫/২০২৩ (তারিখ: ০৪.০৯.২০২৩)-এর ভিত্তিতে এই বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। দীর্ঘ তিন বছরেরও কম সময়ে বিচার প্রক্রিয়া শেষ করে আদালত এই মামলায় অভিযুক্তদের পৃথকভাবে সাজা ঘোষণা করেন। মামলার ১ নম্বর অভিযুক্ত রুবি পাত্র ওরফে সুস্মিতা প্রধানকে ১০ (দশ) বছরের সশ্রম কারাদণ্ড (RI) এবং ১,০০,০০০ (এক লক্ষ) টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ (ছয়) মাসের সাধারণ কারাদণ্ডের (SI) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, অপরাধের তীব্রতা ও চক্রে তাদের সক্রিয় ভূমিকা বিবেচনা করে ২ নম্বর অভিযুক্ত বুলু মহন্ত এবং ৩ নম্বর অভিযুক্ত কৃত্তিবাস পাত্রকে আরও কঠোর শাস্তি হিসেবে ১২ (বারো) বছরের সশ্রম কারাদণ্ড (RI) এবং প্রত্যেকে ১,০০,০০০ (এক লক্ষ) টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ (ছয়) মাসের সাধারণ কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আসানসোল উত্তর থানা এলাকায় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের একটি বিশেষ দল বড়সড় অভিযান চালিয়ে তাক লাগিয়ে দেয়। সেই অভিযানে ১৯৩ কেজিরও বেশি অবৈধ গাঁজা (ক্যানাবিস) জব্দ করা হয়, যার বাজারমূল্য ছিল লক্ষাধিক টাকা। এই বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারের পরেই পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে একটি মাদক পাচার বিরোধী মামলা রুজু করে। গোয়েন্দা সূত্রে খবর পেয়ে এই অভিযান চালানো হয়েছিল। এই চাঞ্চল্যকর কেসটির তদন্ত প্রক্রিয়া অত্যন্ত পেশাদারিত্ব ও নিখুঁতভাবে পরিচালিত হয়েছিল। এই মামলার প্রথম তদন্তকারী আধিকারিক (IO) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন সাব-ইন্সপেক্টর (SI) সুভাষ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পরবর্তীতে কেসটির গুরুত্ব বুঝে তার দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়ে পূর্ণাঙ্গ চার্জশিট দাখিল করে তদন্ত শেষ করেন দ্বিতীয় তদন্তকারী আধিকারিক সাব-ইন্সপেক্টর (SI) শ্যামল চট্টোপাধ্যায়। পুলিশ প্রশাসনের এই দ্বৈত প্রচেষ্টা এবং সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়। আইনজীবীদের মতে, বর্তমান সময়ে রাজ্যে ক্রমবর্ধমান মাদক কারবারের বিরুদ্ধে বিচারব্যবস্থার এই কঠোর ও আপসহীন অবস্থান সমাজ গঠনে এবং পথভ্রষ্ট হওয়া নতুন প্রজন্মকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আসানসোল আদালতের আজকের এই রায় মাদক চোরাকারবারী ও সিন্ডিকেটগুলির বিরুদ্ধে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী বার্তা দিল। সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের দ্রুত বিচার ও কঠোর সাজা নিশ্চিত করা গেলে আগামী দিনে এই ধরনের সমাজবিরুদ্ধ অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। শিল্পাঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এবং যুবসমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে বাঁচাতে পুলিশের এই ভূমিকা ও আদালতের রায় সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে।
ট্যাগসমূহ:Nirbhikbangla
