Nirbhik Bangla
পশ্চিম বর্ধমান

কলকাতার মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনার পর আসানসোল-দুর্গাপুরে জারি হাই অ্যালার্ট

নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
১৮ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১১:২৬ AM
WhatsApp
কলকাতার মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনার পর আসানসোল-দুর্গাপুরে জারি হাই অ্যালার্ট
Nirbhik Bangla Photo
কলকাতা: কলকাতার ঐতিহ্যবাহী চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনার পর গোটা রাজ্যজুড়ে তুমুল আলোড়ন ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। উৎসবের আনন্দের মুহূর্তে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ১৯ জন সাধারণ দর্শনার্থীর অকালপ্রয়াণের ঘটনা পুজো মণ্ডপগুলির নিরাপত্তা, প্রশাসনিক নজরদারি এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার বড়সড় খামতিকে এক নিমেষে প্রকাশ্যে এনে ফেলেছে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পরপরই রাজ্য পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশিকা অনুযায়ী শিল্পাঞ্চল আসানসোল ও দুর্গাপুরজুড়ে জারি করা হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা বা হাই অ্যালার্ট। উৎসবের বাকি দিনগুলিতে যাতে আর কোথাও এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে চরম তৎপরতা ও কঠোর পদক্ষেপ দেখাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ।

রবিবার সকাল থেকেই আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা যৌথভাবে ময়দানে নেমে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। আসানসোল মহকুমা শাসক (সদর) সাধন দেবনাথের নেতৃত্বে পুলিশ ও প্রশাসনের একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল শহরের একাধিক বিগ বাজেট ও জনবহুল পুজো মণ্ডপ পরিদর্শনে যান। বিশেষ করে আসানসোল বার্নপুর রোডের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ রবীন্দ্র নগর উন্নয়ন সমিতি সহ বিভিন্ন জনবহুল মণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার তদারকি করা হয়। এই পরিদর্শকদের উচ্চপর্যায়ের দলে উপস্থিত ছিলেন আসানসোল উত্তরের বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়ও, যিনি পুরো বিষয়টিতে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে চলছেন।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিদর্শনের সময় মণ্ডপের প্রবেশ ও প্রস্থান পথ, আপৎকালীন বাইরে বেরনোর রাস্তা বা ইমার্জেন্সি এক্সিট গেট, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের উপস্থিতি এবং প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয়তার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলি খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে। বিপুল ভিড়ের চাপে যাতে কোনওভাবেই মণ্ডপের ভেতরের বা বাইরের কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং আকস্মিক দুর্ঘটনায় দ্রুত দর্শনার্থীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, সেই ব্লু-প্রিন্টও খতিয়ে দেখছেন অভিজ্ঞ আধিকারিকরা।

কলকাতার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে আসানসোল উত্তরের বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, "উৎসবের আনন্দের পরিবেশে এতগুলি তরতাজা প্রাণের অকালপ্রয়াণ অত্যন্ত বেদনার ও দুঃখজনক। এ ধরনের দুর্ঘটনা কখনওই কাম্য নয়। সব বিপদ হয়তো পুরোপুরি রোখা সম্ভব নয়, তবে আগাম সতর্কতা এবং বিজ্ঞানসম্মত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে বড় অঘটন অনেকটাই এড়ানো যায়।" তিনি আরও জানান, কলকাতার ঘটনার পরই আসানসোলের প্রতিটি পুজো মণ্ডপে নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। রবিবার সকাল থেকেই দফায় দফায় উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক চলছে। পুলিশ ও প্রশাসন সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষ ও দর্শনার্থীরা সম্পূর্ণ নিশ্চিন্তে প্রতিমা দর্শন করতে পারেন।

অন্যদিকে, আসানসোলের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পশহর দুর্গাপুরেও প্রশাসনের তত্পরতা ছিল সমানভাবে চোখে পড়ার মতো। দুর্গাপুরের অন্যতম জনবহুল ও প্রধান আকর্ষণ হিসেবে পরিচিত শঙ্করপুর সর্বজনীন এবং ফুলঝোড় সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে বিশেষ পরিদর্শন চালান প্রশাসনিক কর্তারা। বিশেষ করে সন্ধ্যা নামলেই এই মণ্ডপগুলিতে যেভাবে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে, তা সামাল দেওয়া একটা বড় চ্যালেঞ্জ। তাই ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য পর্যাপ্ত ব্যারিকেড ব্যবস্থা এবং এক্সিট গেটের গতিপথ সঠিকভাবে নির্ধারিত রয়েছে কি না, তা সরেজমিনে পরীক্ষা করেন দুর্গাপুরের মহকুমা শাসক অঙ্কিতা আগরওয়াল এবং নিউ টাউনশিপ থানার উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকরা।

দুর্গাপুরের মহকুমা শাসক অঙ্কিতা আগরওয়াল সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, "আমরা প্রতিটি মণ্ডপের চারপাশ ও অভ্যন্তরীণ সুরক্ষা বলয় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে খুঁটিয়ে দেখছি। ভিড়ের চাপে দর্শনার্থীদের যাতে কোনওমতেই দমবন্ধ পরিস্থিতির মুখে পড়তে না হয় এবং যে কোনও জরুরি পরিষেবা যেমন অ্যাম্বুলেন্স বা অগ্নিনির্বাপক গাড়ি চলাচলের পথ যেন সবসময় সুগম থাকে, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।"

আসানসোল ও দুর্গাপুরের সমস্ত পুজো কমিটিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা অমান্য করলে কিংবা ভিড় নিয়ন্ত্রণে সামান্যতম গাফিলতি দেখা গেলে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রতিটি মণ্ডপে পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন এবং সার্বিক সিসিটিভি ক্যামেরা নজরদারি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। উৎসবের এই দিনগুলিতে সাধারণ মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করাই এখন জেলা প্রশাসন ও আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের সর্বাঙ্গীন প্রধান লক্ষ্য।
ট্যাগসমূহ:Nirbhikbangla
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক, নির্ভীক বাংলা।

WhatsApp
১২ মন্তব্য