ফাঁড়ির ঢিল ছোড়া দূরত্বেই চুরি, লেফ্ট ব্যাংকের নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন
নিজস্ব সংবাদদাতা, শ্যাম দাস, আসানসোল: দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে আসানসোল শিল্পাঞ্চল ও তার আশেপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পুলিশ ফাঁড়ির অত্যন্ত কাছাকাছি এলাকায় চুরির একটি দুঃসাহসিক ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। সালানপুর থানার কল্যাণেশ্বরী ফাঁড়ির ঠিক পেছনেই কলোনি এলাকায় মধ্যরাতে হানা দেয় দুষ্কৃতীরা। যেখানে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার মূল দায়িত্বে থাকা পুলিশের নজরদারি ২৪ ঘণ্টা থাকার কথা, সেই পুলিশ প্রশাসনের কড়া নজরদারি এড়িয়ে কীভাবে এই ধরনের ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে এখন জনমানসে তীব্র অসন্তোষ ও বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।
জানা গিয়েছে, কল্যাণেশ্বরী ফাঁড়ির অন্তর্গত লেফ্ট ব্যাংক এলাকার বাসিন্দা মন্টু রায়ের বাড়িতে এই চুরির ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার সময় পেশায় কর্মরত গৃহকর্তা মন্টু রায় নিজের কর্মস্থলে ডিউটিতে ছিলেন। অন্যদিকে, বাড়ির অন্যান্য সদস্যরা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন। এই সুযোগটিই পুরোপুরি কাজে লাগায় চোরের দল। মানুষের জনবহুল ও সংবেদনশীল এলাকার সুযোগ নিয়ে চোরের দল অত্যন্ত সুকৌশলে বাড়ির ভেতর প্রবেশ করে। এরপর ঘরের ভেতর থেকে বিছানার পাশে রাখা দুটি দামি স্মার্টফোন, কিছু নগদ অর্থ এবং গৃহস্থালির একটি মূল্যবান পিতলের পুজোর বাসন চুরি করে রাতের অন্ধকারে চম্পট দেয়।
সকালে ঘুম ভাঙার পর পরিবারের সদস্যরা ঘরের জিনিসপত্র ছড়ানো ছিটানো দেখে চুরির বিষয়টি বুঝতে পারেন। মুহূর্তের মধ্যে এই খবর এলাকায় জানাজানি হতেই চারদিকে শোরগোল পড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত গৃহকর্তা মন্টু রায় সংবাদমাধ্যমকে প্রতিক্রিয়ায় জানান, "আমি রাতে কাজে গিয়েছিলাম। বাড়িতে পরিবারের সবাই ঘুমাচ্ছিল, সেই সুযোগে চোর ঘরে ঢুকে মোবাইল, টাকা ও পুজোর বাসন নিয়ে পালিয়ে যায়। আমাদের বাড়িটি পুলিশ ফাঁড়ির একদম কাছেই অবস্থিত, তবুও দুষ্কৃতীদের মধ্যে পুলিশের কোনো ভয় নেই। ফাঁড়ির নাকে ডগায় চোরের দল এমন দুঃসাহসিক কাজ করল, তা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রশাসনের এই নিষ্ক্রিয়তা আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে।" তিনি আরও জানান, সকালে তিনি প্রাথমিক পর্যায়ে ঘটনার অভিযোগ জানাতে কল্যাণেশ্বরী ফাঁড়িতে গেলেও সেই মুহূর্তে ফাঁড়ির ইনচার্জ বা দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক উপস্থিত না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগ জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে তিনি কাজের ফাঁকে পরবর্তীতে থানায় গিয়ে এই বিষয়ে লিখিত ও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন।
এই ঘটনার পর থেকেই লেফ্ট ব্যাংক এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রধান এবং সর্বগ্রাসী অভিযোগ, যেখানে খোদ পুলিশ ফাঁড়ির নাকের ডগায় এমন দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটে, সেখানে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের জীবনের ও সম্পত্তির নিরাপত্তা কোথায়? স্থানীয়দের দাবি, লেফ্ট ব্যাংক এলাকায় অতীতে এমন অপরাধমূলক ঘটনা সচরাচর ঘটত না। কিন্তু দুর্গাপুজোর মতো বড় উৎসবের আগে হঠাৎ করে অপরাধের এই গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় মানুষের মনে এক গভীর নিরাপত্তাহীনতা গ্রাস করেছে। অবিলম্বে এলাকায় পুলিশি টহলদারি জোরদার করার পাশাপাশি ঘটনায় জড়িত দুষ্কৃতীদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসীরা। অন্যথায় পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটারও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
অপরাধ
পুজোর আগে আসানসোলে ভেঙে পড়ল আইনশৃঙ্খলা? পুলিশের নাকের ডগায় চুরিতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

Nirbhik Bangla Photo
ট্যাগসমূহ:Nirbhikbangla
