রামলালার শুভ জন্মতিথি উপলক্ষে ধর্মীয় উদ্দীপনা ও উৎসবের নান্দনিক আবহে এক অনন্য রূপ ধারণ করল শিল্পশহর দুর্গাপুরের সমগ্র ইস্পাতনগরী। প্রতিবছরের মতো এবারও রাম নবমী ও রামলালার জন্মোৎসবকে কেন্দ্র করে শহরের অলিগলি থেকে রাজপথ—সর্বত্রই দেখা গেল এক নজিরবিহীন উন্মাদনা ও উৎসবের জোয়ার। প্রথাগত ভাবগাম্ভীর্য, পুজো-পাঠ এবং ধর্মীয় আচারের পাশাপাশি এদিনের উদযাপনে সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছিল একটি অভূতপূর্ব বর্ণাঢ্য বাইক র্যালি এবং ক্রেনের সাহায্যে শহর পরিক্রমা করানো সুবিশাল হনুমানজির মূর্তি।
এদিনের সুবৃহৎ ধর্মীয় শোভাযাত্রার কেন্দ্রবিন্দু এবং প্রধান আকর্ষণ ছিল একটি বিশালাকার ক্রেনে চাপিয়ে বহন করে নিয়ে যাওয়া মহাবীর হনুমানজির এক সুবিশাল মূর্তি। এই অভাবনীয় দৃশ্য চাক্ষুষ করতে এবং আশীর্বাদ নিতে ইস্পাতনগরীর রাস্তার দু’পাশে কৌতূহলী ও শ্রদ্ধালু মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। আপামর ভক্তকুল করজোড়ে, শঙ্খধ্বনি এবং পুষ্পবৃষ্টির মাধ্যমে পবননন্দন হনুমানজিকে অন্তরের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শুধু হনুমানজিই নন, তার পাশাপাশি একাধিক সুসজ্জিত ও আলোকোজ্জ্বল ট্যাবলোতে অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে স্থাপন করা হয়েছিল প্রভু শ্রীরামচন্দ্র, মাতা সীতা, লক্ষ্মণ, ভরত ও শত্রুঘ্নের চোখধাঁধানো সব মূর্তি। গোটা শোভাযাত্রাটি যখন শিল্পশহরের প্রধান প্রধান পথ পরিক্রমা করছিল, তখন আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে ভক্তদের কণ্ঠে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি, শাঁখ-ঘণ্টার আওয়াজ এবং ঢাক-ঢোলের বাদ্যে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ।
উৎসবের আরেকটি অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল উৎসাহ-উদ্দীপনায় ভরপুর এক বিশাল বাইক র্যালি। শহর ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে আগত হাজার হাজার রামভক্ত নিজ নিজ হাতে গেরুয়া পতাকা এবং কপালে গেরুয়া পটি বেঁধে বাইকে চেপে এই বর্ণাঢ্য র্যালিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। তরুণ প্রজন্ম থেকে শুরু করে বয়স্করা—সকলের মধ্যেই ছিল বাঁধভাঙা উৎসাহ। অনুগামীদের এই গগনচুম্বী উল্লাস ও উদ্দীপনা পুরো ইস্পাতনগরীকে যেন এক অদ্ভুত ও পবিত্র গেরুয়া আবহে মুড়ে ফেলেছিল। স্থানীয় বেশ কয়েকটি ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন যৌথভাবে এই বর্ণাঢ্য মিছিলের আয়োজন করে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভক্তির এক অনন্য নজির স্থাপন করে।
শহর পরিক্রমার এই দীর্ঘ পথচলায় তীব্র গরম ও রোদের কথা মাথায় রেখে এবং পথচলতি সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা চিন্তা করে উদ্যোক্তাদের তরফ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মিছিলের বিভিন্ন পয়েন্টে পানীয় জল, ঠান্ডা শরবত এবং রাম নবমীর বিশেষ প্রসাদ বিতরণের সুব্যবস্থা করা হয়েছিল, যা মানবসেবারও এক সুন্দর উদাহরণ সৃষ্টি করে। এদিকে, বিশাল এই জনস্রোত ও উৎসবকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয় এবং শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে সচল থাকে, তার জন্য দুর্গাপুর মহকুমা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সুদৃঢ় ও জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে, ভক্তদের অন্তহীন উন্মাদনা, কঠোর শৃঙ্খলা এবং বর্ণময় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দুর্গাপুরে রামলালার জন্মদিন পালন এবার এক ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় মাত্রা লাভ করল।
বিনোদন
ক্রেনে সওয়ার সুবিশাল হনুমানজি ও মেগা বাইক র্যালি: রাম নবমীতে ভক্তির জোয়ারে ভাসল দুর্গাপুর

Nirbhik Bangla Photo
ট্যাগসমূহ:Nirbhikbangla
