পশ্চিম বর্ধমান জেলাজুড়ে শারদোৎসবের আবহ, নান্দনিক মণ্ডপসজ্জা, নিরাপত্তা বিধি পালন এবং সুশৃঙ্খল প্রতিমা বিসর্জনের ক্ষেত্রে অনন্য নজির স্থাপনকারী সেরা ১২টি পুজো কমিটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদান করা হলো মর্যাদাপূর্ণ ‘দেবী দুর্গা সম্মান-২০২৬’। দুর্গাপূজা চলাকালীন এবং পরবর্তী সময়ে অসাধারণ শৃঙ্খলা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা প্রদর্শনের স্বীকৃতি হিসেবে এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করে জেলা প্রশাসন। শুক্রবার বিকেলে আসানসোলে জেলাশাসকের কার্যালয় চত্বরে আয়োজিত এক জমকালো ও আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে বিজয়ী ক্লাব ও পুজো কমিটিগুলির হাতে সম্মানিত স্মারক, শংসাপত্র এবং আর্থিক পুরষ্কারের চেক তুলে দেওয়া হয়।
উক্ত অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসন ও রাজ্য সরকারের বহু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের উৎসাহিত করেন। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পূর্ত ও জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের মন্ত্রী ডাঃ অজয় পোদ্দার, পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব অরিজিৎ রায়, জেলার পাঁচজন বিধায়ক এবং পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক এস পোন্নাবলম। এছাড়া আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট ও জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের পদস্থ আধিকারিকরা এই সম্মান প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সমগ্র জেলাকে আসানসোল ও দুর্গাপুর—এই দুই মহকুমায় বিভক্ত করে কঠোর মূল্যায়ন পদ্ধতির মাধ্যমে মোট চারটি পৃথক বিভাগে ১২টি পুজো কমিটিকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। ‘সেরা পুজো’র শিরোপা অর্জন করেছে দুর্গাপুরের ক্ষুদিরাম মঠ সর্বজনীন, আসানসোলের রাধানগর রোড অ্যাথলেটিক ক্লাব এবং দুর্গাপুরের মারকনি দক্ষিণপল্লি সার্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি। তাদের মণ্ডপের নান্দনিকতা, ভিড় ব্যবস্থাপনা এবং সামগ্রিক পরিবেশ দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল।
ঐতিহ্য ও আধুনিক শিল্পরীতির অনন্য মিশ্রণে তৈরি মণ্ডপের জন্য ‘সেরা প্রতিমা’ বিভাগে পুরস্কৃত হয়েছে দুর্গাপুরের চতুরঙ্গ পুজো কমিটি, দুর্গাপুরের ফুলঝোর সার্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি এবং আসানসোলের গান্ধীনগর দুর্গাপুজো কমিটি। থিম ভাবনা ও স্থাপত্য শৈলীর দিক থেকে নজরকাড়া সাফল্যের জন্য ‘সেরা মণ্ডপ’ বিভাগের সম্মান ছিনিয়ে নিয়েছে দুর্গাপুরের অগ্রণী সংস্কৃতি পরিষদ, দুর্গাপুরের শংকরপুর সার্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি এবং আসানসোলের রবীন্দ্রনগর উন্নয়ন সমিতি।
শুধু উৎসব উদযাপনই নয়, পূজার মাধ্যমে সামাজিক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য বিশেষ ‘সেরা সমাজ সচেতনতা’ বিভাগে পুরস্কৃত করা হয় আসানসোলের রামবাঁধ সার্বজনীন দুর্গোৎসব পুজো কমিটি, ধেমোমেন দুর্গাপুজো কমিটি এবং খোট্টাডিহি সার্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটিকে। পরিবেশ সুরক্ষা, রক্তদান শিবির এবং সামাজিক দায়িত্ব পালনে এই কমিটিগুলির ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী ডাঃ অজয় পোদ্দার ও অগ্নিমিত্রা পাল যৌথভাবে বলেন, "দুর্গাপূজা কেবল একটি ধর্মীয় আচার বা উৎসব নয়, এটি বাঙালির আবেগ, ঐতিহ্য ও সর্বজনীন সামাজিক মেলবন্ধনের প্রতীক। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সারা বছরের অপেক্ষা শেষে মানুষ এই উৎসবে মেতে ওঠেন। তাই পূজার সার্বিক সুরক্ষা ও প্রশাসনিক নিয়মকানুন মান্য করার বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি ছিল।"
এ বছর পশ্চিম বর্ধমান জেলায় প্রতিমা বিসর্জনের সুশৃঙ্খল ব্যবস্থার ভূয়সী প্রশংসা করে মন্ত্রীরা জানান, জলাশয়ের দূষণ রোধ ও দুর্ঘটনা এড়াতে অভিনব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। যান্ত্রিক ক্রেনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর না করে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত লোকবল ও সমন্বিত ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হয়েছে, যা এক দৃষ্টান্তমূলক ঘটনা। তারা আরও জোর দিয়ে বলেন, পুজোর দিনগুলিতে সাধারণ মানুষের আনন্দের জন্য পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মী-আধিকারিকরা নিজেদের পরিবার থেকে দূরে থেকে দিনরাত পরিশ্রম করেছেন। তাঁদের এই আত্মত্যাগ ও নিরলস দায়িত্বপালনই এই মহোৎসবকে সফল ও নিরাপদ করে তুলেছে। জেলা প্রশাসন ও নাগরিকদের এই সুদৃঢ় পারস্পরিক সহযোগিতার ঐতিহ্য আগামী দিনেও বজায় থাকবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
পশ্চিম বর্ধমান
মণ্ডপসজ্জা থেকে সুশৃঙ্খল বিসর্জন: জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভূষিত দুর্গাপুর ও আসানসোলের সেরারা

Nirbhik Bangla Photo
ট্যাগসমূহ:Nirbhikbangla
