Nirbhik Bangla
আবহাওয়া

কেওয়াইসি থেকে ডিজিটাল অ্যারেস্ট জালিয়াতি: দুর্গাপুরে পুলিশের জালে আন্তঃরাজ্য সাইবার চক্রের ১০

নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ০৮:৩৪ AM
WhatsApp
কেওয়াইসি থেকে ডিজিটাল অ্যারেস্ট জালিয়াতি: দুর্গাপুরে পুলিশের জালে আন্তঃরাজ্য সাইবার চক্রের ১০
Nirbhik Bangla Photo
দুর্গাপুরে সাইবার অপরাধের বাড়বাড়ন্ত রুখতে বড়সড় সাফল্য পেল আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট। গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে দুর্গাপুর থানা এলাকার বিভিন্ন প্রান্তে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে ১০ জন কুখ্যাত সাইবার প্রতারককে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। এই চক্রের সঙ্গে ঝাড়খণ্ডের কুখ্যাত 'জামতাড়া মডিউলের' প্রত্যক্ষ যোগাযোগ রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তদন্তকারীরা।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই দুর্গাপুরের শিল্পাঞ্চলকে ডেরা বানিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ব্যাঙ্কের কেওয়াইসি (KYC) আপডেট, ভুয়ো লোন, ওটিপি জালিয়াতি এবং ডিজিটাল অ্যারেস্টের ভয় দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠছিল। এই আন্তর্জাতিক ও আন্তঃরাজ্য চক্রটিকে ধরতে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়।

শুক্রবার গভীর রাতে দুর্গাপুর থানার বিশেষ পুলিশ বাহিনী শহরের নঈমনগর, মসজিদ মহল্লা, সোনার তরী আবাসিক এলাকা এবং একাধিক স্থানীয় হোটেলে একযোগে অভিযান চালায়। সেখানে গোপন আস্তানা গেড়ে বসে প্রতারণার জাল বিস্তার করেছিল এই অপরাধীরা। ঘটনাস্থল থেকেই হাতেনাতে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ধৃতদের মধ্যে একজন ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ওই ব্যক্তিই মূলত জামতাড়ার সাইবার গ্যাংয়ের সঙ্গে দুর্গাপুরের স্থানীয় নেটওয়ার্কের সংযোগকারী হিসেবে কাজ করত। ধৃতদের কাছ থেকে একাধিক ল্যাপটপ, প্রচুর দামি স্মার্টফোন, বিপুল সংখ্যক ভুয়ো প্রি-অ্যাক্টিভেটেড সিম কার্ড, বিভিন্ন ব্যাঙ্কের পাসবই, এটিএম কার্ড এবং সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্যের তালিকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

গোয়েন্দাদের ধারণা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ এড়াতে অভিযুক্তরা বারবার তাদের ডেরা বদল করত এবং বিভিন্ন হোটেল বা ভাড়া বাড়িকে অস্থায়ী কল সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করত। পুলিশ উদ্ধার হওয়া গ্যাজেটগুলি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠাচ্ছেন।

শনিবার ধৃত ১০ জনকেই কড়া নিরাপত্তায় দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করে দুর্গাপুর থানার পুলিশ। ঘটনার গভীরতা বিবেচনা করে এবং চক্রের মূল পাণ্ডাদের নাম জানতে ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। ধৃতদের মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে এই সাইবার অপরাধের টাকা কোথায় পাচার হতো এবং এই জালে আর কারা জড়িত, সে সংক্রান্ত আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
ট্যাগসমূহ:Durgapur
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক, নির্ভীক বাংলা।

WhatsApp
১২ মন্তব্য
কেওয়াইসি থেকে ডিজিটাল অ্যারেস্ট জালিয়াতি: দুর্গাপুরে পুলিশের জালে আন্তঃরাজ্য সাইবার চক্রের ১০ | নির্ভীক বাংলা