আসানসোল: শিল্পশহর আসানসোলকে আরও বেশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, সুন্দর এবং দূষণমুক্ত রাখতে এবার এক বিশেষ এবং কঠোর পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করল আসানসোল পুরনিগম। দীর্ঘদিন ধরে শহরের বিভিন্ন অলিগলি এবং জনবহুল এলাকায় যত্রতত্র জঞ্জাল ফেলার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং শহরের সামগ্রিক পরিবেশের মানোন্নয়ন ঘটাতে পুরনিগমের শীর্ষ কর্তারা শহরের বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের পরই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে একগুচ্ছ কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ।
সম্প্রতি পুরনিগমের পরিদর্শনে উঠে আসে এক উদ্বেগজনক চিত্র। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক প্লেস, বাজার এলাকা এবং বাণিজ্যিক কেন্দ্রের আশপাশে নির্দিষ্ট ডাস্টবিন বা জঞ্জাল ফেলার পাত্র থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়ীরা নিয়ম না মেনে যত্রতত্র ময়লা ফেলছেন। এর ফলে শহরের নিকাশি ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ডেঙ্গু বা ম্যালেরিয়ার মতো জলবাহিত ও মশা-বাহিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধির আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুরনিগমের পক্ষ থেকে তৎপরতা শুরু হয়েছে এবং গোটা শহর জুড়ে ১০০টিরও বেশি ‘গার্বেজ ভালনারেবল পয়েন্ট’ বা আবর্জনা জমার ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সেই সমস্ত জঞ্জালবহুল স্থানগুলি পরিষ্কার করার কাজ শুরু করে দিয়েছে পুরনিগমের সাফাই কর্মীরা।
শহরকে জঞ্জালমুক্ত রাখার এই উদ্যোগে সাধারণ নাগরিকদের সচেতন করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। পুরনিগমের পক্ষ থেকে শহরের প্রতিটি নাগরিকের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, তাঁরা যেন সর্বদা নির্দিষ্ট ডাস্টবিন ব্যবহার করেন। বিশেষ করে শুকনো ও ভেজা বর্জ্য বা জঞ্জাল যেন সবসময় আলাদা আলাদা পাত্রে সংগ্রহ করা হয়, সেই বিষয়েও বিশেষ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে পুরনিগমের জঞ্জাল অপসারণের গাড়ি কিংবা এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত ‘নির্মল বন্ধু’-দের হাতেই যাতে সঠিক নিয়মে গৃহস্থালির বর্জ্য তুলে দেওয়া হয়, সেই মর্মেও নাগরিকদের বিশেষভাবে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শুধু সাধারণ নাগরিকরাই নন, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলির ক্ষেত্রেও কড়া নিয়ম চালু করা হয়েছে। আসানসোল পুরনিগমের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি দোকান, শপিং মল, এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলকভাবে নিজস্ব ডাস্টবিন রাখতে হবে। কোনো বাণিজ্যিক এলাকায় যদি অতিরিক্ত ডাস্টবিনের প্রয়োজন হয়, তবে ব্যবসায়ীরা পুরনিগমে আবেদন করতে পারেন। আবেদন খতিয়ে দেখে পুরনিগমের পক্ষ থেকেই সেই সমস্ত এলাকায় প্রয়োজনীয় ডাস্টবিন সরবরাহ করা হবে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে পুরনিগমের পক্ষ থেকে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রচারের ওপর সর্বাধিক জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে বারবার সতর্ক করার পরেও যদি কেউ এই নির্দেশ অমান্য করে যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা অব্যাহত রাখেন, তবে আগামী দিনে তাঁদের বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানা-সহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে পুরনিগম।
সব মিলিয়ে, আসানসোলের পরিবেশ রক্ষা এবং শহরকে একটি আদর্শ ও পরিচ্ছন্ন রূপ দিতে পুরনিগমের এই অভিনব ও সময়োপযোগী উদ্যোগে সর্বস্তরের নাগরিকদের পূর্ণ সহযোগিতা করার জন্য আন্তরিক আবেদন জানানো হয়েছে। সচেতন নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া শহরের এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান সফল করা সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
আসানসোল
যত্রতত্র ময়লা ফেললে দিতে হবে জরিমানা, আসানসোল পুরনিগমের কঠোর নির্দেশিকা

Nirbhik Bangla Photo
ট্যাগসমূহ:Nirbhikbangla
