Nirbhik Bangla
পশ্চিম বর্ধমান

পরিবেশ ধ্বংস ও শ্রমিকের অধিকার কাড়ছে কারখানা কর্তৃপক্ষ, ক্ষোভে ফুটছে শিল্পাঞ্চল

নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
২৫ আগস্ট, ২০২৬ এ ০৮:৩১ AM
WhatsApp
পরিবেশ ধ্বংস ও শ্রমিকের অধিকার কাড়ছে কারখানা কর্তৃপক্ষ, ক্ষোভে ফুটছে শিল্পাঞ্চল
Nirbhik Bangla Photo
ন্যায্য মজুরির দাবিতে ফের উত্তপ্ত দেন্দুয়া: সমাধান না হলে পরিবার সহ পথ অবরোধের হুঁশিয়ারি শ্রমিক নেতার

পশ্চিমবঙ্গ সরকার নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি প্রদান এবং কর্মক্ষেত্রে কঠোর সুরক্ষাবিধির দাবিতে আসানসোলের শিল্পাঞ্চল দেন্দুয়ার আসানসোল অ্যালয় কারখানা চত্বর ফের একবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। নিজেদের নায্য পাওনা, কাজের পরিবেশের উন্নয়ন ও আইনি সুরক্ষার দাবিতে গত তিন দিন ধরে কারখানার শ্রমিকেরা লাগাতার আন্দোলন ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করে চলেছেন। শ্রমিকদের অভিযোগ, তাঁদের এই সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে ভীতি প্রদর্শন করে নস্যাৎ করতে কারখানা কর্তৃপক্ষ বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে চলেছে।

আন্দোলনরত এক মহিলা শ্রমিক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, রাজ্য সরকার যেখানে দৈনিক মজুরি ৩৮৬ টাকা ধার্য করেছে, সেখানে নারী শ্রমিকদের চরম শোষণের শিকার হতে হচ্ছে। তাঁদের মাত্র ২৭৫ টাকা দৈনিক মজুরি দেওয়া হচ্ছে। এই বৈষম্য ও কম মজুরি দেওয়ার প্রতিবাদ করলেই কারখানা কর্তৃপক্ষ থেকে তাঁদের কাজ থেকে ছাঁটাই করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছেন কারখানার মালিকপক্ষ। আরও এক শ্রমিক জানান যে, স্থানীয় বঞ্চিত শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে কারখানা কর্তৃপক্ষ বাইরে থেকে অধিক মজুরিতে নতুন লোক এনে জোরপূর্বক উৎপাদন চালু রাখার চেষ্টা করছে। এই বহিরাগত শ্রমিকদের দিয়ে কাজ চালালেও স্থানীয়দের নায্য অধিকার দেওয়া হচ্ছে না।

শ্রমিকদের সুরক্ষার বিষয়টিও এখানে চরম উপেক্ষিত। কারখানার ভেতরে ন্যূনতম কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থা নেই। কোনো শ্রমিক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হলে তাঁর চিকিৎসার পুরো খরচ তো দূরের কথা, তাঁকে মাত্র অর্ধেক মজুরি দেওয়া হয়। এই অমানবিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার দাবি তুললেই কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে স্পষ্ট ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ জবাব আসে— 'কাজ করলে করো, না হলে চলে যাও।' শ্রমিকদের জীবন নিয়ে এই ছিনিমিনি খেলায় ক্ষোভ দানা বাঁধছে গোটা এলাকায়।

শুধু শ্রমিক শোষণ নয়, এই কারখানার বিরুদ্ধে পরিবেশ ধ্বংসের মারাত্ম অভিযোগও উঠেছে। কারখানা থেকে অবাধে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়া ও রাসায়নিক বর্জ্যে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত দূষণ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা পলিউশন কন্ট্রোল ডিভাইস নিয়মমাফিক না চালিয়ে, সেই খরচের টাকা বাঁচাতে কিছু অসাধু ও দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাকে ম্যানেজ করে পরিবেশ সংক্রান্ত সমস্ত আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কারখানা চালানো হচ্ছে, যা স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্যকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

এই পুরো পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে শ্রমিক নেতা অমর নাথ মাহাতো অভিযোগ করেন যে, সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ-প্রশাসন এই গভীর সংকটে শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানোর বা সাহায্য করার পরিবর্তে সম্পূর্ণভাবে মালিকপক্ষের হয়ে কাজ করছে। গতকাল শ্রমিকেরা এই সমস্ত অনিয়ম, বঞ্চনা ও শোষণের বিষয়টি বিস্তারিত জানিয়ে জেলাশাসকের (DM) কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগামী বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসন, কারখানা কর্তৃপক্ষ এবং শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি ত্রিপাক্ষিক যৌথ সমাধান বৈঠকের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে শ্রমিক নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আগামী বৃহস্পতিবারের এই বৈঠকে যদি শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, বকেয়া হাজিরা এবং সুরক্ষার সুনির্দিষ্ট সুরাহা না হয়, তবে বাধ্য হয়ে শ্রমিকরা তাঁদের পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে দেন্দুয়া অঞ্চল পুরোপুরি স্তব্ধ করে দিতে বৃহত্তর এবং অনির্দিষ্টকালের পথ অবরোধে নামবেন।
ট্যাগসমূহ:Nirbhikbangla
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক, নির্ভীক বাংলা।

WhatsApp
১২ মন্তব্য