Nirbhik Bangla
ব্রেকিং নিউজ

র রানীগঞ্জের lifeline এনএসবি রোডে চরম দুর্দশা, প্রশাসনের ঘুম ভাঙবে কবে?

নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ১০:৫৪ AM
WhatsApp
র রানীগঞ্জের lifeline এনএসবি রোডে চরম দুর্দশা, প্রশাসনের ঘুম ভাঙবে কবে?
শ্যাম দাস, আসানসোল: বর্ষা এলেই যেন আতঙ্কের অন্য নাম হয়ে ওঠে খনিঞ্চল রানীগঞ্জ। কখনও মাটির নিচের ধস, কখনও আবার জলমগ্ন রাস্তা—সবমিলিয়ে বর্ষাকাল মানেই এখানকার সাধারণ মানুষের কাছে এক চরম উৎকণ্ঠার সময়। আর এবছর সেই আতঙ্কের প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে শহরের লাইফলাইন বলে পরিচিত এনএসবি রোড (NSB Road)। রানীগঞ্জ শহরের বুক চিরে চলে যাওয়া এই জাতীয় সড়কটি বর্ষার প্রথম পশলাতেই এক ভয়ঙ্কর মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।

গত তিন দিনের টানা অবিরাম বৃষ্টিতে যখন গোটা দক্ষিণবঙ্গ বিপর্যস্ত, ঠিক তখনই রানীগঞ্জের সাহেবগঞ্জ মোড় থেকে পাঞ্জাবি মোড় পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সড়কের বেহাল দশা চরম আকার ধারণ করেছে। রাস্তার উপরিভাগের পিচ ও খোয়া উঠে তৈরি হয়েছে অজস্র ছোট-বড় মরণঘাতী গর্ত। অবিরাম বৃষ্টির জলে সেই গর্তগুলি সম্পূর্ণ ঢেকে যাওয়ায় দূর থেকে তা খালি চোখে ঠাওর করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে স্বাভাবিক মসৃণ রাস্তা ভেবে ভুল করে প্রতিনিয়ত চরম বিপদের মুখে পড়ছেন পথচলতি মানুষ ও চালকরা।

বৃহস্পতিবার দুপুরের একটি ঘটনা এই বিপজ্জনক পরিস্থিতিরই এক নির্মম প্রমাণ। এদিন দুপুর নাগাদ যাত্রবোঝাই একটি টোটো সাহেবগঞ্জ মোড় সংলগ্ন এলাকায় জলের নিচে লুকিয়ে থাকা এমনই একটি বিশাল গর্তে পড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে জাতীয় সড়কের মাঝেই উল্টে যায়। এই দুর্ঘটনায় টোটোচালক সহ বেশ কয়েকজন যাত্রী গুরুতর আহত হন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সাহায়তায় তাদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা করানো হয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা অত্যন্ত ক্ষোভের সুরে জানান, এই ধরনের দুর্ঘটনা এই রাস্তায় এখন রোজকার রুটিনে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় এক দোকানদার বলেন, 'এটা নতুন কিছু নয়। গত কয়েকদিনের লাগাতার বৃষ্টিতে প্রায় প্রতিদিনই ছোট গাড়ি, বাইক ও টোটো বিকল হয়ে উল্টে যাচ্ছে। বালি বা কয়লা বোঝাই ভারী ট্রাকের চাকাও আকস্মিক বসে যাচ্ছে এই গর্তগুলোতে।' স্কুলপড়ুয়া থেকে শুরু করে অফিসযাত্রী, কিংবা রোগী নিয়ে যাওয়া জরুরি অ্যাম্বুলেন্স—সকলকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই মরণফাঁদ পার হতে হচ্ছে।

কিন্তু কেন এই খনিশহরে প্রতিবার বর্ষা এলেই এই ধরনের মারাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হয়? বিশেষজ্ঞদের মতে, রানীগঞ্জ-আসানসোল শিল্পাঞ্চল মূলত ভূগর্ভস্থ কয়লা খনির জন্য পরিচিত। মাটির নিচে শত শত বছর ধরে চলা খননকার্যের ফলে বহু এলাকা ভেতর থেকে ফাঁপা হয়ে রয়েছে। বর্ষার জল মাটির নিচে চুইয়ে পড়লে বা অতিরিক্ত বৃষ্টিতে মাটি নরম হয়ে গেলেই এই জাতীয় সড়কগুলির বিভিন্ন অংশ বসে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এনএসবি রোডের বর্তমান এই বেহাল দশা সেই পুরনো আশঙ্কারই পুনরাবৃত্তি কি না, তা নিয়ে এখন তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, পরিস্থিতি এতদূর গড়ালেও জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ (NHAI) কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের তরফ থেকে রাস্তা মেরামতের ক্ষেত্রে কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা বা হেলদোল লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষের একটাই প্রশ্ন, বর্ষা আসলেই কেন খনিশহর রানীরঞ্জকে এই চরম দুর্দশার মুখোমুখি হতে হয়? আর ঠিক কতগুলি দুর্ঘটনা ঘটলে, কতগুলি তাজা প্রাণ বিপন্ন হলে প্রশাসনের ঘুম ভাঙবে এবং এই জীবনরেখা স্বরূপ রাস্তাটির স্থায়ী সংস্কার হবে?
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক, নির্ভীক বাংলা।

WhatsApp
১২ মন্তব্য