Nirbhik Bangla
ব্যবসা

অবসান দুই যুগের স্থবিরতা, কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় ভোট রূপনারায়নপুরে

নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ০৮:২৩ AM
WhatsApp
অবসান দুই যুগের স্থবিরতা, কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় ভোট রূপনারায়নপুরে
Nirbhik Bangla Photo
দীর্ঘ ২০ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষা এবং বহু রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক টানাপোড়েনের পর অবশেষে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো রূপনারায়ণপুর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচন। সুদীর্ঘ দুই দশক ধরে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অনুপস্থিতি এবং বারবার গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কমিটি গঠনের দাবি উপেক্ষিত হওয়ার পর এই নির্বাচনকে ঘিরে স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলে এক অভূতপূর্ব উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুরো বাজার চত্বরে আঁটসাঁট পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল, যার ফলে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এর আগে সর্বশেষ ২০০৬ সালে রূপনারায়ণপুর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। অথচ নিয়মানুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা স্বার্থান্বেষী মহলের গোপন স্বার্থ এবং হস্তক্ষেপে তা বছরের পর বছর আটকে থাকে। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে একটি জোড়াতালি দেওয়া পুরোনো কমিটির ওপর ভর করেই বাজার পরিচালনা করতে বাধ্য হচ্ছিলেন এখানকার ব্যবসায়ীরা। সাধারণ ব্যবসায়ীদের স্বার্থরক্ষা, সার্বিক কল্যাণ সাধন এবং সাংগঠনিকভাবে বাজারকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করার মতো কোনো দৃশ্যমান বা উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ বিগত কমিটি নিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছিল।

ভোটার ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, এই খোলসসর্বস্ব কমিটির আমলে রূপনারায়ণপুর বাজারের রেজিস্টার্ড কোনো নিজস্ব কার্যালয় পর্যন্ত গড়ে ওঠেনি, ছিল না কোনো সুনির্দিষ্ট ও আধুনিক বাজার ব্যবস্থাপনা। বিশেষ করে বাজারে আগত ক্রেতা ও দূরদূরান্ত থেকে আসা বিক্রেতাদের জন্য কোনো শৌচাগার বা পাবলিক টয়লেট না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো সাধারণ মানুষকে, বিশেষ করে নারী ক্রেতাদের। এছাড়া বাজারের জঘন্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তীব্র ক্ষোভ জমছিল ব্যবসায়ী মহলে। যত্রতত্র নোংরা ও আবর্জনার স্তূপ জমে থাকলেও তা পরিষ্কারের স্থায়ী বা বৈজ্ঞানিক কোনো ব্যবস্থা ছিল না। পাশাপাশি, শর্ট সার্কিট বা অগ্নিসংযোগের মতো কোনো জরুরি দুর্ঘটনা ঘটলে এই জনবহুল এলাকায় দমকলের স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় পুরোপুরি আসানসোল বা চিত্তরঞ্জনের ওপর নির্ভর করতে হতো, যা ব্যবসায়ীদের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তাকে সবসময় চরম শঙ্কার মধ্যে রাখত। আগের কমিটির নেতৃত্ব এই সমস্ত মৌলিক সমস্যা সমাধানে সম্পূর্ণ উদাসীন ও নিষ্ক্রিয় ছিল বলেই অভিযোগ সাধারণ ব্যবসায়ীদের।

তবে এবারের নির্বাচনে সভাপতি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বিশ্বনাথ রুজ। জয়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক्रিয়ায় তিনি জানান, বিগত দুই দশকে বাজারের উন্নয়নে কার্যত কোনো কাজই হয়নি, বরং বাজারটি পিছিয়ে পড়েছে। সাধারণ ব্যবসায়ীরা এবার পরিবর্তন চেয়েছেন এবং তাঁর ওপর পূর্ণ ভরসা রেখেছেন। তিনি আগামী দিনে একটি ঐক্যবদ্ধ, শক্তিশালী এবং ব্যবসায়ীবান্ধব সংগঠন গড়ে তোলার সুদৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেন। একইসঙ্গে তিনি বাজারের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ও জ্যান্ত সমস্যাগুলো— যেমন আধুনিক শৌচাগার নির্মাণ, জঞ্জাল অপসারণের স্থায়ী বন্দোবস্ত এবং অগ্নিপ্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করতে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কড়া আশ্বাস দিয়েছেন।

অন্যদিকে, সমিতির সম্পাদক পদ সহ অন্যান্য সেক্টরের নির্বাচনও অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত হয়েছে। সম্পাদক পদপ্রার্থী স্বপন কুমার দাঁ অত্যন্ত আশাবাদী যে, দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে এই নির্বাচন রূপনারায়ণপুর বাজার সমিতির ইতিহাসে এক নতুন ও সোনালী দিগন্ত উন্মোচন করবে। তিনি জানান, ব্যবসায়ীদের স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসা, অংশগ্রহণ ও সমর্থনই এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে চূড়ান্ত সাফল্য এনে দিয়েছে।

উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে সুষ্ঠুভাবে ভোট পরিচালনা এবং প্রতিটি এলাকার সঠিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে পুরো রূপনারায়ণপুর বাজারকে মোট ছয়টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়েছিল। প্রতিটি সেক্টরে আলাদা আলাদাভাবে প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে সেক্টর-১ (বিহার রোড) এলাকায় বাবু দাস, সোনালী সিং কাপুর এবং সাফিক আনসারী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করেছেন। সেক্টর-২ (রেল ক্রসিং থেকে ডাবর মোড়) থেকে জয়ী হয়েছেন দেবেশ কুমার তেওয়ারি ও মনোজ কুমার মন্ডল। সেক্টর-৩ (ডাবর মোড় থেকে হণ্ডা শোরুম) এলাকায় নরেন্দ্র নাথ রুজ, অরুণ কুমার তেওয়ারি ও মুরারী মাহাতো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। সেক্টর-৪ (ডাবর মোড় থেকে হিরো শোরুম ও ডিএভি স্কুল পর্যন্ত) থেকে রামচন্দ্র সাঁও, শ্রীকান্ত চন্দ্র, দিলীপ ঘোষ, নীতীশ রঞ্জন চৌধুরী, সুখময় কুম্ভকার ও সন্টু রায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন।

বাজারের অন্যতম দীর্ঘ ও ব্যস্ত এলাকা হওয়ায় সেক্টর-৫ কে আবার তিনটি উপ-বিভাগে ভাগ করা হয়— ডাবর মোড় থেকে মহাবীর কলোনি মোড় পর্যন্ত '৫-এ', মহাবীর কলোনি মোড় থেকে পুরনো অলোক দাসের চেম্বার পর্যন্ত '৫-বি', এবং সেখান থেকে গোড়ান্ডি রোড ও কেন্দুয়াডি মোড় পর্যন্ত '৫-সি'। এছাড়াও রূপনারায়ণপুর সুপার মার্কেট এলাকাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ 'সেক্টর-৬' হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। সম্পাদক পদে স্বপন কুমার দাঁ ও সোমনাথ তেওয়ারির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়।

দীর্ঘ ২০ বছর পর অনুষ্ঠিত এই ঐতিহাসিক নির্বাচন রূপনারায়ণপুর বাজারের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে একটি বড়সড় টার্নিং পয়েন্ট বা মাইলফলক হিসেবে দেখছেন অভিজ্ঞ অর্থনৈতিক মহল। এখন দেখার বিষয়, দীর্ঘ লড়াইয়ের পর আসা এই নতুন নেতৃত্ব কীভাবে বাজারের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ঘটিয়ে ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা পূরণ করে, সেদিকেই গভীর নজর রয়েছে পুরো দোকানদার ও ব্যবসায়ী মহলের।
ট্যাগসমূহ:Nirbhikbangla
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক, নির্ভীক বাংলা।

WhatsApp
১২ মন্তব্য