Nirbhik Bangla
রাজ্য

বসিরহাট ও সুন্দরবনের প্রান্তিক এলাকার ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে উদ্যোগী রামকৃষ্ণ মিশন

.. নির্ভীক বাঙালি, বসিরহাট: প্রান্তিক ও দরিদ্র পরিবারের ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষায় আলো আনার পথে আরও এক ধাপ। কুলীনগ্রাম রামকৃষ্ণ মিশনের অগোল শিকড়া গদাधर अभ्युद्या প্রজেক্ট। বসিরহা...

Abdul Haque
Abdul Haque
২৫ মে, ২০২৬ এ ১১:৩৬ PM
WhatsApp
বসিরহাট ও সুন্দরবনের প্রান্তিক এলাকার ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে উদ্যোগী রামকৃষ্ণ মিশন
.. নির্ভীক বাঙালি, বসিরহাট: প্রান্তিক ও দরিদ্র পরিবারের ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষায় আলো আনার পথে আরও এক ধাপ। কুলীনগ্রাম রামকৃষ্ণ মিশনের অগোল শি|নির্ভীক বাংলা ফটো

..

নির্ভীক বাংলা,বসিরহাট : প্রান্তিক ও দুস্থ পরিবারের ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে আরও এক ধাপ এগোল শিকড়া কুলীনগ্রাম রামকৃষ্ণ মিশনের গদাধর অভ্যুদয় প্রকল্প। বসিরহাট মহকুমার বসিরহাট ও সুন্দরবন সংলগ্ন একাধিক এলাকায় নতুন শিক্ষা সহায়ক পরিকাঠামোর সূচনা হলো এই প্রকল্পের মাধ্যমে। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই উদ্যোগে খুশির হাওয়া বইছে প্রত্যন্ত এলাকার ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের মধ্যে। বসিরহাট ২নং ব্লকের চৈতা গ্রাম পঞ্চায়েতের কেন্দুয়া লালপল্লীতে এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হলো একটি নতুন ভবন। এই ভবনকে কেন্দ্র করে এলাকার প্রান্তিক পরিবারের পড়ুয়ারা নিয়মিত পড়াশোনার সুযোগ পাবে, পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষামূলক সহায়তা ও দিকনির্দেশও মিলবে। দীর্ঘদিন ধরেই এই অঞ্চলে শিক্ষার পরিকাঠামোর অভাব অনুভূত হচ্ছিল। নতুন ভবন চালু হওয়ায় সেই ঘাটতি অনেকটাই মিটবে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অন্যদিকে সুন্দরবনের হাড়োয়া ব্লকেও গদাধর অভ্যুদয় প্রকল্পের আওতায় উল্লেখযোগ্য কাজ সম্পন্ন হয়েছে। হাড়োয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের গোবেড়িয়া এলাকায় এবং গোপালপুর ১নং গ্রাম পঞ্চায়েতের হারাণেঘেরী এলাকায় নির্মিত হয়েছে দ্বীতল ভবন। নদী-বাঁধ, লবণাক্ত মাটি আর প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করেই বড় হতে হয় এই এলাকার পড়ুয়াদের। সেই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে শিক্ষার নিরবচ্ছিন্ন পরিবেশ তৈরি করাই এই প্রতিষ্ঠান গুলির মূল লক্ষ্য। গদাধর অভ্যুদয় প্রকল্পের মাধ্যমে মূলত প্রান্তিক ও দুস্থ ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনায় সব রকম সহযোগিতা করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত পাঠদান, সহায়ক শিক্ষা সামগ্রী, নৈতিক শিক্ষার পাশাপাশি শিশুদের মানসিক বিকাশেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় এই প্রকল্পের মাধ্যমে। শুধু পরীক্ষার ফল ভালো করা নয়, বরং সমাজের দায়িত্ববান মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের মূল দর্শন। এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেলুড় মঠের সহকারী সাধারণ সম্পাদক স্বামী বোধসরনন্দজি মহারাজ ও স্বামী দয়াকরনন্দজি মহারাজ। তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রামকৃষ্ণ মিশনের একাধিক সন্ন্যাসী, স্থানীয় বিশিষ্টজন, জনপ্রতিনিধি ও গ্রামবাসীরা। তাদের সব রকম সহযোগিতা করেন বিশিষ্ট সমাজসেবী গৌতম মন্ডল। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মহারাজরা বলেন, "শিক্ষাই সমাজ পরিবর্তনের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম। প্রান্তিক এলাকার শিশুরা যদি সঠিক দিশা ও সুযোগ পায়, তবে তারাই আগামী দিনে সমাজের মুখ উজ্জ্বল করবে।" উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিশুদের মুখে হাসি আর চোখে স্বপ্ন স্পষ্ট ধরা পড়ে। নতুন ভবন, পড়াশোনার সুব্যবস্থা ও মিশনের সহানুভূতিশীল পরিবেশ—সব মিলিয়ে এই প্রকল্প ভবিষ্যতে আরও বহু ছাত্রছাত্রীর জীবনে পরিবর্তন আনবে বলেই আশাবাদী সকলেই। গদাধর অভ্যুদয় প্রকল্প যে শুধু একটি শিক্ষা উদ্যোগ নয়, বরং প্রান্তিক সমাজকে মূল স্রোতে ফেরানোর এক নিরন্তর প্রয়াস, তা এদিনের অনুষ্ঠানে আবারও প্রমাণিত হলো।

Abdul Haque
Abdul Haque

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক, নির্ভীক বাংলা।

WhatsApp
১২ মন্তব্য