দুর্গাপুর: প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল দুর্গাপুরের আনন্দপুর এলাকা। সরকারি অনুদানের ঘর প্রকৃত উপভোক্তাদের বদলে অন্য এক ব্যক্তির নামে বরাদ্দ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। এই ঘটনার জেরে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার বাড়ি ঘেরাও করে তীব্র বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত নেতাকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়েন, যা এলাকায় 'ডিম থেরাপি' নামেই পরিচিত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কোকওভেন থানা থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে ছুটে আসে এবং উত্তেজিত জনতার হাত থেকে অভিযুক্ত নেতাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গিয়েছে, তৃণমূল জমানার সময় দুর্গাপুর নিগমের ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত নডিহা সংলগ্ন আনন্দপুর এলাকার বাসিন্দা তথা স্থানীয় তৃণমূল নেতা বিশ্বনাথ মাঝি প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বহু মানুষের কাছ থেকে ফর্ম ফিলাপ করান। শুধু তাই নয়, সরকারি বাড়ি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে তাঁর বিরুদ্ধে মোটা অঙ্কের টাকা তোলারও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। সম্প্রতি রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের হাওয়া লাগার পর এবং আবাস যোজনা নিয়ে নতুন করে কড়াকড়ি শুরু হতেই আনন্দপুর এলাকার গরিব ও অসহায় মানুষজন সরকারি ঘরের ট্যাকিং বা অনলাইন আবেদন খতিয়ে দেখতে যান। তখনই সামনে আসে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।
অভিযোগ, প্রকৃত ও যোগ্য গরিব মানুষরা সরকারি ঘরের তালিকায় স্থান না পেলেও, সম্পূর্ণ অন্য কোনো 'ভুতুড়ে' বা প্রভাবশালীর লোক সেই বাড়ি বাগিয়ে নিয়েছে। এই অনিয়মের খবর চাউর হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার সাধারণ মানুষ। অভিযোগের তির সরাসরি গিয়ে মেশে স্থানীয় তৃণমূল নেতা বিশ্বনাথ মাঝির বিরুদ্ধে। এরপরই বিক্ষুব্ধ জনতা দলবদ্ধ হয়ে বিশ্বনাথ মাঝির বাড়ির সামনে জড়ো হন। তারা নেতার বাড়ি ঘেরাও করে স্লোগান দিতে শুরু করেন এবং ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে তাকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়ে মারেন। এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কোকওভেন থানার পুলিশ। সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি রোধ করতে পুলিশ বাহিনী দ্রুত হস্তক্ষেপ করে এবং অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাকে ঘেরাও মুক্ত করে থানায় নিয়ে যায়।
এদিকে, বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, যতদিন পর্যন্ত প্রকৃত উপভোক্তারা তাদের প্রাপ্য সরকারি বাড়ি না পাচ্ছেন, ততদিন এই আন্দোলন থেকে তারা পিছু হটবেন না। প্রয়োজনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের হুশিয়ারিও দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অন্যদিকে, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা বিশ্বনাথ মাঝি। তিনি এই ঘটনাকে রাজনৈতিক চক্রান্ত বলে দাবি করেছেন। তবে আবাস যোজনার মতো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুর্গাপুরের এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
দুর্গাপুর
প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার অনিয়ম ঘিরে রণক্ষেত্র দুর্গাপুর, পুলিশের হস্তক্ষেপে উদ্ধার অভিযুক্ত নেতা

Nirbhik Bangla Photo
ট্যাগসমূহ:Nirbhikbangla
