বারাবনি: অপরিকল্পিত টোটোর দৌরাত্ম্য এবং যাত্রী সুরক্ষা নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভের অবশেষে বিস্ফোরণ ঘটল আসানসোল-দোমোহানি রুটে। গত কাল থেকেই এই রুটে সমস্ত মিনিবাস চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছিলেন বাস মালিক ও চালকরা। তাদের স্পষ্ট দাবি ছিল, যতক্ষণ না অবৈধ টোটোর বেপরোয়া চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে এবং নির্দিষ্ট নিয়ম বলবৎ করা হচ্ছে, ততক্ষণ তারা রাস্তায় বাস নামাবেন না। এর ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে আজ সকালে উভয় পক্ষকে নিয়ে বারাবনি থানায় এক জরুরি বৈঠকে বসেন বারাবনি থানার ওসি দিব্যেন্দু মুখার্জি এবং ট্রাফিকের দুই পুলিশ আধিকারিক। বৈঠকে বাস মালিক-চালক এবং টোটো চালক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ আলোচনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, দমনী বাজারে টোটোর প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হবে এবং টোটোগুলির জন্য একটি নির্দিষ্ট পার্কিং জোন তৈরি করা হবে। সেই নির্দিষ্ট স্থান থেকেই টোটোগুলি যাত্রী নিয়ে চলাচল করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়।
তবে প্রশাসনের এই মধ্যস্থতা এবং নির্দেশ পুরোপুরি মেনে নিতে নারাজ মিনিবাস চালক ও কন্টাকটাররা। তাদের মতে, এই ধরনের আংশিক পদক্ষেপে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হয়ে বাস চালক ও কর্মীরা তাদের পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য আসানসোল মিনিবাস অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয়ের শরণাপন্ন হয়েছেন। এই আকস্মিক বাস ধর্মঘট এবং টোটো-বাস দ্বন্দ্বের জেরে জট কাটেনি বললেই চলে, যা নিয়ে এলাকায় এখনো চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
[সংবাদে বাস চালক ও টোটো চালকদের বক্তব্য সংযোজিত]
মিনি বাস চালক: "আমাদের রুটে যেভাবে যত্রতত্র টোটো চালানো হচ্ছে, তাতে আমাদের ব্যবসা শিকেয় উঠেছে। প্রতিদিন আমাদের বিপুল লোকসান হচ্ছে। প্রশাসন যে সমাধানসূত্র দিয়েছে, তাতে আমাদের সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। আমরা পূর্ণাঙ্গ প্রতিকার না পেলে বাস চালানো সম্ভব নয়।"
টোটো চালক: "আমরা গরিব মানুষ, টোটো চালিয়েই আমাদের সংসার চলে। হঠাৎ করে আমাদের গাড়ি ঢোকা বন্ধ করে দিলে আমরা কোথায় যাব? আমাদেরও জীবিকার প্রশ্ন রয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে একটি সুষম সমাধান হওয়া উচিত, যাতে উভয় পক্ষই কাজ করতে পারে।"
ব্রেকিং নিউজ
আসানসোল-দোমোহানি রুটে টোটোর দাপট: পুলিশের হস্তক্ষেপেও কাটল না বাস ধর্মঘটের জট

Nirbhik Bangla Photo
ট্যাগসমূহ:Baraboni
