Nirbhik Bangla
পশ্চিম বর্ধমান

নাতনিকে স্কুলে ছেড়ে ফেরার পথেই বিপত্তি! কুলটিতে প্রবীণার হার ছিনতাইয়ে গ্রেপ্তার ২, উদ্ধার গয়না

নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
২৫ আগস্ট, ২০২৬ এ ০৮:১৮ AM
WhatsApp
নাতনিকে স্কুলে ছেড়ে ফেরার পথেই বিপত্তি! কুলটিতে প্রবীণার হার ছিনতাইয়ে গ্রেপ্তার ২, উদ্ধার গয়না
Nirbhik Bangla Photo
কুলটিতে সাতসকালে বৃদ্ধার গলা থেকে সোনার চেন ছিনতাইয়ের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় বড়সড় সাফল্য পেল কুলটি থানার পুলিশ। আন্তঃথানা দুষ্কৃতী চক্রের ওপর নজরদারি চালিয়ে ঘটনায় জড়িত দুই অপরাধীকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি উদ্ধার করা হয়েছে ছিনতাই হওয়া সম্পূর্ণ সোনার হারটি। ধৃতদের নাম দয়াময় সিনহা ও বাবলু দাস। দুজনেই আসানসোলের হিরাপুর থানা এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল গত ১২ আগস্ট। কুলটি থানার অন্তর্গত বিরাজপল্লী (সন্যাসী থান) এলাকার বাসিন্দা, ৭২ বছর বয়সি প্রবীণ নাগরিক মঞ্জু মিত্র প্রতিদিনের মতো সকালে নাতনিকে স্কুলের বাসে তুলে দিতে গিয়েছিলেন। সকাল আনুমানিক ১০টা নাগাদ নাতনিকে বাসে তুলে দিয়ে হেঁটে বাড়ি ফেরার সময় জনবহুল এলাকায় আচমকাই এক নীল শার্ট পরা দুষ্কৃতী তাঁর পথ আটকে দাঁড়ায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই এক ঝটকায় বৃদ্ধার গলা থেকে আনুমানিক ১০ গ্রাম ওজনের সোনার চেনটি ছিনিয়ে নিয়ে চম্পট দেয় সে। বৃদ্ধার চিৎকারে পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এলেও ততক্ষণে চম্পট দেয় দুষ্কৃতী।

এই ঘটনার পর আতঙ্কিত বৃদ্ধা মঞ্জু মিত্র কুলটি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। দিনদুপুরে প্রবীণ নাগরিকের ওপর এমন হামলায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে তড়িঘড়ি তদন্তে নামে পুলিশ। বিরাজপল্লী ও আশেপাশের এলাকার একাধিক সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ সংগ্রহ করে খতিয়ে দেখা শুরু হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দুষ্কৃতীর পালানোর রুট চিহ্নিত করার পর নিজস্ব সোর্স ও গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তদন্তকারীরা হিরাপুর থানা এলাকার এই দুই যুবকের সন্ধান পান।

এরপর গত ২০ আগস্ট রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে হিরাপুর থেকে দয়াময় সিনহা ও বাবলু দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ধৃতদের আসানসোল মহকুমা আদালতে পেশ করে পুলিশ চার দিনের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায়। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করার পর পুলিশি হেফাজতে রেখে শুরু হয় দফায় দফায় জেরা।

কড়া জিজ্ঞাসাবাদের মুখে অবশেষে মুখ খোলে অভিযুক্তরা। পুলিশি জেরায় ধৃত দয়াময় সিনহা স্বীকার করে যে, ছিনতাই করা সোনার হারটি সে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজের বাড়িতেই লুকিয়ে রেখেছিল। এরপরেই কুলটি থানার পুলিশ দয়াময়ের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে ছিনতাই হওয়া সোনার চেনটি উদ্ধার করে। পুলিশের অনুমান, দয়াময় সিনহাই এই ছিনতাই কাণ্ডের মূল মাস্টারমাইন্ড এবং বাবলু দাস তাকে অপরাধ সংঘটনে সাহায্য করেছিল।

জনবহুল এলাকায় প্রবীণ মহিলার ওপর এমন ছিনতাইয়ের ঘটনায় বিরাজপল্লী এলাকায় যে ভীতি ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও গয়না উদ্ধারের পর সেখানে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের এই তৎপরতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত রয়েছে কি না বা আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেট এলাকায় অন্যান্য ছিনতাইয়ের ঘটনার সঙ্গে এদের কোনো যোগযোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ তদন্ত জারি রেখেছে।
ট্যাগসমূহ:Nirbhikbangla
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক, নির্ভীক বাংলা।

WhatsApp
১২ মন্তব্য