শ্যাম দাস, আসানসোল: পশ্চিমবঙ্গ বর্ধমান জেলার বারাবনি বিধানসভার পাঁচগাছিয়া নায়াবস্তি ঘাটাল এলাকায় একটি প্রাচীন শিবমন্দিরকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি তীব্র চাঞ্চল্য ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি বড় অংশের দাবি, ওই মন্দিরের শিবলিঙ্গ এবং নন্দী মূর্তিতে চামচ দিয়ে জল নিবেদন করা হলে সেই জল মুহূর্তে অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের কাছে অলৌকিক ঘটনা বলে মনে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত বুধবার সকালে এলাকার একটি স্থানীয় পরিবার বরাবরের মতো ওই পুরনো শিবমন্দিরে পুজো দিতে যায়। পুজো চলাকালীন ওই পরিবারের এক মহিলা সদস্য শিবলিঙ্গে জল ঢালেন। কিন্তু তাঁর দাবি অনুযায়ী, স্বাভাবিক নিয়মে জল যেভাবে মূর্তির গাত্র বেয়ে নিচে গড়িয়ে পড়ার কথা, এক্ষেত্রে তা হয়নি। জল কোথায় যেন মিলিয়ে যায়।
এই ঘটনার পর কৌতূহলী হয়ে ওই মহিলা একটি চামচ দিয়ে শিবলিঙ্গে জল দিতে শুরু করেন। পরিবারের দাবি, চামচ ভরা জল শিবলিঙ্গে ঠেকানোর সঙ্গে সঙ্গেই তা চোখের পলকে অদৃশ্য হয়ে যায়। শুধু শিবলিঙ্গেই নয়, পরবর্তীতে পরিবারের এক কিশোরী সদস্য মন্দিরের বাইরে থাকা নন্দী মূর্তির মুখেও চামচ দিয়ে জল দেয়। সেখানেও ঠিক একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে বলে দাবি করা হয়েছে।
এই অদ্ভুত ঘটনার খবর দাবানলের মতো এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে বেশি সময় লাগেনি। মুহূর্তের মধ্যে মন্দির চত্বরে আশপাশের গ্রাম ও এলাকা থেকে শত শত মানুষ ভিড় জমাতে শুরু করেন। প্রত্যেকেই নিজ চোখে এই দৃশ্য দেখার জন্য এবং জল নিবেদন করার জন্য উদগ্রীব হয়ে পড়েন। কেউ কেউ একে দেবাদিদেব মহাদেবের কৃপা বা অলৌকিক লীলা বলে প্রচার শুরু করেন, যা নিয়ে ভক্ত মহলে ভক্তির আবহ তৈরি হয়েছে।
তবে এই ঘটনার পর সচেতন মহলে ও বিজ্ঞানপ্রেমীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই যুক্তির প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিজ্ঞান মঞ্চের প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞদের মতে, শিবলিঙ্গ বা নন্দী মূর্তিগুলি যে পাথর বা উপাদান দিয়ে তৈরি, তার porosity বা ছিদ্রযুক্ত প্রকৃতির কারণে এমনটা হতে পারে। পাথরের শোষণ ক্ষমতা, কিংবা জল দ্রুত বাষ্পীভূত হওয়া অথবা কৈশিক প্রক্রিয়ার (Capillary action) ফলে জল সহজে দৃশ্যমান নাও হতে পারে। তাছাড়া, মূর্তির গঠনশৈলী এবং জলের পরিমাণ কম হওয়ার কারণেও এমন দৃষ্টিভ্রম বা ভৌত প্রতিক্রিয়া ঘটা অসম্ভব নয়।
অলৌকিক দাবির অন্তরালে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা খোঁজার চেষ্টা চলছে ঠিকই, তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাঁচগাছিয়া নায়াবস্তি এলাকায় উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন সেই মন্দির দর্শনে। তবে এ ধরনের ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে এবং অন্ধবিশ্বাস দূর করতে প্রশাসনিক স্তরে বা বিজ্ঞানসম্মতভাবে পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন বুদ্ধিজীবীরা।
আসানসোল
বারাবনিতে শিবলিঙ্গ ও নন্দী মূর্তিতে জল নিবেদনের পর উধাও! তুঙ্গে ভক্তদের কৌতূহল

Nirbhik Bangla Photo
ট্যাগসমূহ:Nirbhikbangla
