আসানসোলে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে আচমকা ধস: বিশাল গর্ত ঘিরে তীব্র আতঙ্ক, প্রশ্নের মুখে রক্ষণাবেক্ষণ
শ্যাম দাস, আসানসোল: শিল্পাঞ্চল আসানসোলের অত্যন্ত ব্যস্ত ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে আচমকা ধসের কারণে তৈরি হয়েছে গভীর গর্ত। সালানপুর থানার অন্তর্গত এথোড়া সেতু সংলগ্ন এলাকায় কলকাতাগামী লেনে এই বিপর্যয় ঘটে। হঠাৎ রাস্তার একটি অংশের মাটি ধসে গিয়ে প্রায় ১ থেকে দেড় ফুট গভীর ও বিস্তৃত গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে পথচলতি মানুষ ও যানবাহন চালকদের মধ্যে।
জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার গভীর রাতে আচমকাই এই ধস নামার বিষয়টি নজরে আসে। কলকাতা ও দিল্লির সংযোগকারী এই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সড়ক দিয়ে দিনরাত হাজার হাজার ছোট-বড় গাড়ি এবং ভারী পণ্যবাহী লরি দ্রুত গতিতে চলাচল করে। রাতের অন্ধকারে এই ধরনের গর্তের কারণে যেকোনো মুহূর্তে ঘটতে পারত বড়সড় বিপর্যয়। ধস দেখে সময়মতো চালকরা সতর্ক হওয়ায় বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি ঠিকই, তবে এথোড়া সেতু সংলগ্ন এলাকায় সাময়িকভাবে যানবাহন চলাচলের গতি থমকে যায়।
শিল্পাঞ্চল আসানসোল ও তৎসংলগ্ন খনি এলাকায় মাটির নিচে জল নিষ্কাশন বা ভূগর্ভস্থ ফাঁপা অংশের কারণে ধসের ঘটনা নতুন নয়। তবে দেশের অন্যতম প্রধান জাতীয় সড়কে কীভাবে এমন ধস নামল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও নিত্যযাত্রীরা। দূরপাল্লার লরি চালকদের অভিযোগ, নিয়মিত নজরদারি এবং উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই জাতীয় সড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এই ধরনের বিপদ তৈরি হচ্ছে। তাঁরা দ্রুত পুরো সড়কটি পরীক্ষা করে স্থায়ী মেরামতির দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সালানপুর থানার পুলিশ এবং জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের টহলদারি দল। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে তড়িঘড়ি ওই দুর্ঘটনাপ্রবণ অংশটি ব্যারিকেড ও গার্ডরেল দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। চালকদের সতর্ক করতে ট্রাফিক নির্দেশিকাও দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়েছে। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ খতিয়ে দেখে দ্রুত স্থায়ী মেরামতির কাজ শুরু করা হবে।
দেশ
NH-১৯-এ ধসে তৈরি গভীর গর্ত, প্রশ্নের মুখে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের রক্ষণাবেক্ষণ

Nirbhik Bangla Photo
ট্যাগসমূহ:Nirbhikbangla
