আসানসোল: সাতসকালে পুকুরের জলে এক ব্যক্তির পচাগলা মৃতদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ালো জামুড়িয়া থানার অন্তর্গত বেনালি গ্রামে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম মধু হেমরম। তিনি বেনালি টুইলা পাড়ার স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। শনিবার সকালে স্থানীয় ঘাসুরিয়া পুকুরে তাঁর মৃতদেহ ভাসতে দেখে এলাকায় শোরগোল পড়ে যায়।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৮ তারিখ সকালে বাড়ির কাছেই পদ্ম ফুল তোলার উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন মধু হেমরম। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিক্রম করার পরও তিনি বাড়ি ফিরে না আসায় চিন্তিত হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। রাতভর ও তার পরবর্তী দিনগুলিতে আত্মীয়স্বজনের বাড়ি এবং সম্ভাব্য সমস্ত জায়গায় খোঁজাখুঁজি চালানো হলেও তাঁর কোনো সন্ধান মেলেনি। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনায় উদ্বিগ্ন ছিল পুরো পরিবার।
আজ সকালে বেনালি গ্রামের কোলিয়ারি সংলগ্ন 'ঘাসুরিয়া' নামক পুকুরের দিকে কাজে গিয়েছিলেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। সেই সময় তাঁরা জলের ওপর একটি দেহ ভেসে থাকতে দেখেন। কৌতুহলবশত কাছে গিয়ে তাঁরা চিনতে পারেন দেহটি নিখোঁজ মধু হেমরমেরই। মুহূর্তে এই খবর ছড়িয়ে পড়লে বহু মানুষ পুকুর পাড়ে ভিড় জমান।
ঘটনার খবর দেওয়া হয় শ্রীপুর ফাঁড়ির পুলিশকে। খবর পেয়ে শ্রীপুর ফাঁড়ির আধিকারিকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছান। পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় পুকুর থেকে দেহটি তুলে প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়। এরপর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য আসানসোল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পদ্ম ফুল তুলতে গিয়ে অসাবধানতাবশত জলে ডুবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য বা অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র লুকিয়ে রয়েছে—তা নিয়ে এলাকায় জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। শ্রীপুর ফাঁড়ির পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। তবে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পশ্চিম বর্ধমান
পুকুর থেকে নিখোঁজ ব্যক্তির পচাগলা মৃতদেহ উদ্ধার, চাঞ্চল্য বেনালিতে

Nirbhik Bangla Photo
ট্যাগসমূহ:Nirbhikbangla
