Nirbhik Bangla
রাজ্য

অভাবের সঙ্গে লড়াই করে অ্যাম্বুলেন্স চালক থেকে মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রে দেবজিৎ

নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
২৫ আগস্ট, ২০২৬ এ ০৮:৪৮ AM
WhatsApp
অভাবের সঙ্গে লড়াই করে অ্যাম্বুলেন্স চালক থেকে মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রে দেবজিৎ
Nirbhik Bangla Photo
অ্যাম্বুলেন্স চালক থেকে সোজা ইসরোতে, অদম্য জেদে স্বপ্নের উড়ান নদিয়ার দেবজিতের

অভাব, অনটন এবং শত প্রতিকূলতার পাহাড়প্রমাণ বাধাকে তুচ্ছ করে দেশের অন্যতম শীর্ষ মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো (ISRO)-তে চাকরির সুযোগ পেয়ে এক অনন্য নজির গড়লেন নদিয়া জেলার গাংনাপুরের প্রত্যন্ত এলাকার যুবক দেবজিৎ ভদ্র। অন্ধকারের বুক চিরে আলোর দিশা পাওয়ার মতো এই ঘটনায় এখন রীতিমতো আলোড়ন পড়ে গেছে এলাকায়। সম্প্রতি অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটায় অবস্থিত বিখ্যাত সতীশ ধওয়ান স্পেস সেন্টারে 'টেকনিশিয়ান বি' (Technician B) পদে নিয়োগপত্র হাতে পেয়েছেন তিনি। পেশায় শক্তিনগর জেলা হাসপাতালের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালক দেবজিতের এই অভাবনীয় ও অভাবনীয় সাফল্যে আজ কেবল তাঁর পরিবার নয়, গর্বিত গোটা নদিয়া জেলা তথা রাজ্যবাসী।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, খুব সাধারণ একটি পরিবারে জন্ম নেওয়া দেবজিতের ছোটবেলা থেকেই লড়াইয়ের জীবন শুরু হয়েছিল। চরম আর্থিক অনটন নিত্যসঙ্গী ছিল। পেটে দু'মুঠো ভাত জোগাড় করতেই যেখানে হিমশিম খেতে হতো পরিবারের, সেখানে উচ্চশিক্ষা বা বড় কোনো স্বপ্ন দেখা ছিল বিলাসিতার সমান। তবে শত দারিদ্র্যের মধ্যেও পড়াশোনার প্রতি টান কমেনি দেবজিতের। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের পর তিনি আইটিআই (ITI) পাশ করেন। ঠিক এই সময়ই ভারতের উচ্চাভিলাষী চন্দ্রযান অভিযানের ঐতিহাসিক সাফল্য গোটা দেশকে নাড়া দিয়েছিল। সেই সাফল্যই কিশোর দেবজিতের মনে এক সুদূরপ্রসারী স্বপ্নের বীজ বুনে দেয়। তিনি মনেপ্রাণে দেশের মহাকাশ গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সংকল্প করেন।

তবে স্বপ্ন দেখা যত সহজ, তা বাস্তবায়ন করা ততটাই কঠিন ছিল। জীবিকার তাগিদে তাঁকে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স চালকের চাকরি নিতে হয়। কিন্তু জীবন তো আর থেমে থাকে না। হাসপাতালে টানা ১২ ঘণ্টার অত্যন্ত ক্লান্তিকর ও ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাম্বুলেন্স চালকের ডিউটি সামলানোর পরও থামেনি তাঁর লড়াই। ডিউটি রুমের ফাঁকা সময়, রাতের নিস্তব্ধতা কিংবা বাড়ি ফিরে গভীর রাত পর্যন্ত একটানা পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন দেবজিৎ। পথ ছিল দুর্গম। কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে গিয়ে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় বার বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ব্যর্থতার মুখ দেখতে হয় তাঁকে। প্রতিবার ব্যর্থতা এলেও তিনি ভেঙে পড়েননি, বরং ভুলত্রুটি শুধরে নিয়ে দ্বিগুণ উৎসাহে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। বন্ধুমহলের সুস্থ প্রতিযোগিতা এবং মনের মধ্যে থাকা অদম্য জেদকে সম্বল করেই তিনি অবশেষে কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের মুখ দেখলেন। দেবজিতের মতে, এই কঠোর যাত্রাপথে তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল ঈশ্বরের আশীর্বাদ, বাবা-মায়ের অক্লান্ত সমর্থন এবং বন্ধুদের অবিরাম উৎসাহ।

ছেলের এই ঐতিহাসিক সাফল্যে এখন আনন্দের জোয়ার বইছে দেবজিতের পরিবারে। আবেগাপ্লুত বাবা জানান, জীবনে পদে পদে এগিয়ে যাওয়ার রাস্তা মানুষের কর্ম এবং ভাগ্যের উপর নির্ভর করে, যা আজ নিজের পরিশ্রমে প্রমাণ করে দেখিয়েছে তাঁর ছেলে। অন্যদিকে, অতীত সংগ্রামের কঠিন দিনগুলোর স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে চোখে জল চলে আসে মা চায়না ভদ্রের। তিনি জানান, তীব্র অর্থকষ্টের মাঝেও তিনি কোনো দিন ছেলেকে পড়াশোনা থেকে দূরে সরিয়ে রাখেননি, বরং শত অভ্যাবের মাঝেও সর্বদাই সাহস ও ভরসা জুগিয়ে গেছেন। অন্যদিকে, স্বামীর এই সুদূরপ্রসারী সাফল্যে অত্যন্ত গর্বিত স্ত্রী প্রিয়ঙ্কা ভদ্রও। তিনি জানান, পারস্পরিক ভালোবাসার সম্পর্ক থেকে তাঁদের পরিণয় হয়েছিল। শুরু থেকেই স্বামীর কঠোর পরিশ্রম, সততা এবং মেধার ওপর তাঁর পূর্ণ আস্থা ছিল যে, এই লড়াই একদিন না একদিন সফল হবেই এবং তিনি বড় কোনো সম্মান অর্জন করবেন।

দেবজিতের এই আকাশছোঁয়া সাফল্য আজ প্রমাণ করে দিল যে, ইচ্ছা শক্তি থাকলে শত প্রতিকূলতা পেরিয়েও শিখরে পৌঁছানো যায়। তাঁর এই জয়রথ শুধু একটি পরিবারের ভাগ্য বদলায়নি, বরং বাংলার তরুণ প্রজন্মকে নতুন স্বপ্ন দেখতে এবং তা বাস্তবায়িত করতে এক অনন্য প্রেরণা জুগিয়েছে।
ট্যাগসমূহ:Nirbhikbangla
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক, নির্ভীক বাংলা।

WhatsApp
১২ মন্তব্য