দেন্দুয়া-কল্যাণেশ্বরী রোডে চলন্ত মিনিবাসের চালকের ওপর প্রাণঘাতী হামলার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় বড়সড় সাফল্য পেল কল্যাণেশ্বরী ফাঁড়ির পুলিশ। ঘটনার কয়েকমাসের মধ্যে ও ভাইরাল সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে এক চিহ্নিত দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করল আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট। ধৃত যুবকের নাম আশিক রুইদাস (২৩)। সে স্থানীয় সালানপুর ব্লকের জেমারী হাটতলা রুইদাস পাড়ার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
ঘটনা সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন পূর্বে দেন্দুয়া-কল্যাণেশ্বরী রোডের দেন্দুয়া হাসপাতালের কাছে যাত্রী বোঝাই একটি চলন্ত মিনিবাসকে জোরপূর্বক থামায় একদল সশস্ত্র দুষ্কৃতী। অভিযোগ, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই মিনিবাসের দরজা ভেঙে চালকের ওপর চড়াও হয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। মারধরের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, চালক মারাত্মকভাবে আহত হয়ে বাসের ভেতরেই সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। আচমকা এই হামলায় বাসের যাত্রীদের মধ্যেও চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার খবর পেয়েই তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কল্যাণেশ্বরী ফাঁড়ির পুলিশ। তারা গুরুতর আহত চালককে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে। এই ঘটনার পর এলাকার পরিবহন কর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং দুষ্কৃতীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি ওঠে।
সম্প্রতি এই নির্মম মারধরের একটি সিসিটিভি ফুটেজ সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্রভাবে ভাইরাল হয়। ভিডিওটি নজরে আসতেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের নির্দেশনায় ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের ছবি ও পরিচয় শনাক্ত করার কাজ জোরকদমে শুরু হয়। সোর্স মারফত খবর পেয়ে আজ সকালে দেন্দুয়া অঞ্চলের একটি কারখানার আশপাশ থেকে মূল অভিযুক্তদের অন্যতম আশিক রুইদাসকে ঘেরাও করে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
আজই ধৃতকে আসানসোল মহকুমা আদালতে হাজির করা হয়। তদন্তের স্বার্থে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, কোনো পুরোনো শত্রুতা বা বচসার জেরেই এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছিল। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত বাকি অভিযুক্তরা বর্তমানে এলাকা ছেড়ে পলাতক। পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে, বাকি দুষ্কৃতীদের সন্ধানে সম্ভাব্য সমস্ত ডেরায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে এবং খুব শীঘ্রই তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
অপরাধ
দেন্দুয়া হাসপাতালের সামনে বাস চালকের ওপর প্রাণঘাতী হামলা, পুলিশের জালে অভিযুক্ত আশিক রুইদাস

Nirbhik Bangla Photo
ট্যাগসমূহ:Dendua
