Nirbhik Bangla
রাজ্য

প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতার সংঘাত: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের অচলাবস্থায় উত্তাল রাজ্য রাজনীতি

Abdul Haque
Abdul Haque
২৩ আগস্ট, ২০২৬ এ ১২:৩৫ PM
WhatsApp
প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতার সংঘাত: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের অচলাবস্থায় উত্তাল রাজ্য রাজনীতি
Nirbhik Bangla Photo
নির্ভীক বাংলা বিশেষ প্রতিবেদন: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতার সংঘাত, উত্তাল রাজ্য রাজনীতি

রাজ্য জুড়ে বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে 'অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার' প্রকল্প। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মহিলাদের প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা থাকলেও, বাস্তবে তা পাওয়া নিয়ে রাজ্যজুড়ে অসন্তোষ ও ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। একদিকে যেমন বহু মহিলা এই প্রকল্পের টাকা পেতে শুরু করায় আনন্দ প্রকাশ করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ছবি নিয়ে কৃতজ্ঞতা শোভাযাত্রা বের করেছেন (যেমন মালদার রতুয়ায় দেখা গেছে), অন্যদিকে ঠিক তার বিপরীত ছবিও উঠে আসছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। টাকা না পাওয়ার অভিযোগে সাধারণ মানুষের ধৈর্যচ্যুতি ঘটছে এবং তারা রাজপথ থেকে শুরু করে রেললাইন অবরোধের মতো চরম পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

পশ্চিম বর্ধমান জেলার চিত্রটি বিশেষ করে উত্তপ্ত। আসানসোল কুলটি বিধানসভার ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপি পার্টি অফিসের সামনে এলাকার মহিলারা বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের অভিযোগ, অনলাইন ও অফলাইন—উভয় মাধ্যমেই সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সত্ত্বেও তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এখনও টাকা ঢোকেনি। ১৭ই আগস্টের মধ্যে টাকা চলে আসার কথা থাকলেও, তারপরেও দিনের পর দিন কেটে যাওয়ায় তাঁরা ক্ষুব্ধ। একই ছবি ধরা পড়েছে অন্ডাল বিডিও অফিস চত্বরেও। সেখানে মহিলারা বিডিও অফিস ঘেরাও করার পাশাপাশি জিটি রোড অবরোধ করেন। তাঁদের বক্তব্য, বারবার বিডিও অফিসে এসেও কোনো সদুত্তর মিলছে না, যার ফলে গৃহস্থালীর কাজ ফেলে তাঁদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে যখন বারাবনির সলানপুর বিডিও অফিসে বিক্ষোভরত মহিলাদের একাংশের বিরুদ্ধে অফিসের চেয়ার-টেবিল ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। একইভাবে কুলচির কল্যাণেশ্বরী বরাকর রোডের রামনগর এলাকায় মহিলারা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান, যার জেরে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। শুধু পশ্চিম বর্ধমান নয়, উত্তর ২৪ পরগনার বিরাটি স্টেশনেও একই কারণে দুপুরে রেললাইন অবরোধ করেন ক্ষুব্ধ মহিলারা, ফলে কিছুক্ষণের জন্য ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। গোবরডাঙা পৌরসভাতেও প্রতিবাদের ছবি দেখা গেছে, যেখানে সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিকদের ক্যামেরা বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে এক বহিরাগত যুবকের বিরুদ্ধে, যিনি মন্ডল সভাপতির ব্যক্তিগত দেহরক্ষী হিসেবে পরিচিত। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে বড়ো প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।

উত্তরবঙ্গের ধূপগুড়ি থেকে শুরু করে দক্ষিণবঙ্গের পাঁশকুড়া ও ঘাটাল—সর্বত্রই যেন এক হাহাকার চিত্র। ধূপগুড়িতে দেখা গেছে স্বজনপোষণের মারাত্মক অভিযোগ; বহু যোগ্য ও দরিদ্র গৃহবধূ বঞ্চিত হলেও একই পরিবারের একাধিক সদস্য সুবিধা পেয়ে যাচ্ছেন। পাঁশকুড়ায় টাকা না পেয়ে রাস্তায় নামা মহিলাদের উপর পুলিশি হেনস্থা ও লাঞ্ছনার অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

বিরোধী শিবির ও সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, যদি যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে থাকে তবে কেন যোগ্য প্রার্থীরা এখনও বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন? এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশাসনিক উদাসীনতা এবং প্রতিশ্রুতির বরখেলাপ সাধারণ মানুষের মনে গভীর হতাশার সৃষ্টি করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত এই ত্রুটি সংশোধন করে সমস্ত বঞ্চিত ও যোগ্য মহিলাদের অ্যাকাউন্টে বকেয়া টাকা পৌঁছে না দিলে আগামী দিনে এই আন্দোলন আরও বৃহত্তর আকার ধারণ করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ট্যাগসমূহ:Nirbhikbangla
Abdul Haque
Abdul Haque

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক, নির্ভীক বাংলা।

WhatsApp
১২ মন্তব্য