Nirbhik Bangla
রাজ্য

উৎসবের মরশুমের আগে রাজ্যে বাড়ল কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা, মোট মোতায়েন ১০০ কোম্পানি বাহিনী

Abdul Haque
Abdul Haque
২৩ আগস্ট, ২০২৬ এ ০৪:৪৩ PM
WhatsApp
উৎসবের মরশুমের আগে রাজ্যে বাড়ল কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা, মোট মোতায়েন ১০০ কোম্পানি বাহিনী
Nirbhik Bangla Photo
নির্ভীক বাংলা বিশেষ প্রতিবেদন:

রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও সুদৃঢ় করতে এবং আসন্ন উৎসবের মরশুমকে সম্পূর্ণ নিরাপদ রাখতে বাংলায় ফের বাড়ানো হলো কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনীর মোতায়েন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা ও নিরাপত্তা মূল্যায়নের পর, রাজ্যে নতুন করে ৫০ কোম্পানি অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী এসে পৌঁছেছে। এর ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গে মোট মোট ১০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী নিরাপত্তার দায়িত্বভার গ্রহণ করল।

প্রশাসনিক সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, গত রবিবার রাত আটটা নাগাদ আসানসোল রেলওয়ে স্টেশনে এসে পৌঁছায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর একটি বিশেষ দল, যার মধ্যে ছিল ৬ কোম্পানি জওয়ান। লোকসভা বা বিধানসভা নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার বেশ কিছুদিন কেটে গেলেও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে নজরদারি চালানোর জন্য ইতিমধ্যেই কিছু সংখ্যক বাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে জওয়ানের সংখ্যা একলাফে অনেকটাই বৃদ্ধি পেল।

উল্লেখ্য, নির্বাচন মিটে যাওয়ার পর প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ১৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যে বহাল তবিয়তে ছিল। পরবর্তীতে পরিস্থিতির ক্রমান্বয়ে উন্নতির কথা বিবেচনা করে সেখান থেকে প্রায় ১০০ কোম্পানি জওয়ানকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। কিন্তু সম্প্রতি রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং আসন্ন বড় উৎসবগুলিকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলতে ফের ৫০ কোম্পানি অতিরিক্ত বাহিনী রাজ্যে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রক।

নতুন করে মোতায়েন হওয়া এই কেন্দ্রীয় দলগুলিতে বিএসএফ (BSF), সিআরপিএফ (CRPF) এবং এসএসবি (SSB)-র মতো দেশের প্রথম সারির নিরাপত্তা সংস্থার অভিজ্ঞ জওয়ানদের রাখা হয়েছে। তাঁদের মূল দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে রাজ্যের সংবেদনশীল ও স্পর্শকাতর অঞ্চলগুলিতে নিয়মিত রুট মার্চ বা টহলদারি চালানো, সন্দেহভাজন গতিবিধির উপর কঠোর নজর রাখা এবং স্থানীয় জেলা পুলিশের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় রেখে যে কোনো ধরনের অশান্তি বা অপ্রীতিকর ঘটনা কঠোর হাতে দমন করা।

বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, আসন্ন দুর্গাপুজো এবং অন্যান্য উৎসবের মরশুমকে সামনে রেখেই এই আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন। প্রতি বছরই বাংলায় দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে বিশ্বজোড়া উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। কলকাতা থেকে শুরু করে রাজ্যের প্রতিটি জেলায় লক্ষ লক্ষ মানুষের জমায়েত হয় পুজোর মণ্ডপগুলিতে, বিপণীবিতানগুলিতে এবং বিভিন্ন ধর্মীয় স্থানে। এই বিশাল জনস্রোত ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বিক জননিরাপত্তা রক্ষা করা রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশের কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাই অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি সাধারণ মানুষের মনে সুরক্ষা ও আস্থার ভাব আরও সুদৃঢ় করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, নির্বাচন পর্ব অনেক আগেই শেষ হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও রাজ্যে এইভাবে বিপুল পরিমাণে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রাখা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা ও চুলচেরা বিশ্লেষণ। বিরোধী দলগুলি এই নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলতে শুরু করলেও, সরকারি ও প্রশাসনিক মহলের পক্ষ থেকে বারবার স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কোনো রাজনৈতিক অভিসন্ধি নেই। প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হলো সাধারণ মানুষের জানমালের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, উৎসবের দিনগুলিতে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং অপরাধমূলক কাজকর্ম কঠোরভাবে প্রতিহত করা।

সবমিলিয়ে, রাজ্যবাসীকে একটি নির্বিঘ্ন, শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর উৎসবের মরশুম উপহার দিতে প্রশাসন যে কোনো প্রকার কসুর করছে না, তা এই ১০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের মাধ্যমেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি এই কেন্দ্রীয় জওয়ানদের তৎপরতা আগামী দিনে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলায় কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
Abdul Haque
Abdul Haque

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক, নির্ভীক বাংলা।

WhatsApp
১২ মন্তব্য