শ্যাম দাস ,নির্ভীক বাংলা,আসানসোল, পশ্চিমবঙ্গ:
আসানসোলের হেলথ ওয়ার্ল্ড হাসপাতালে কথিত চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে তিন বছরের এক শিশুকন্যার মৃত্যুকে ঘিরে শনিবার ব্যাপক উত্তেজনা ছড়া...
শ্যাম দাস ,নির্ভীক বাংলা,আসানসোল, পশ্চিমবঙ্গ:
আসানসোলের হেলথ ওয়ার্ল্ড হাসপাতালে কথিত চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে তিন বছরের এক শিশুকন্যার ম|নির্ভীক বাংলা ফটো

শ্যাম দাস, নতুন বাঙালি, আসানসোল, পশ্চিমবঙ্গ:
শনিবার আসানসোলের হেলথ ওয়ার্ল্ড হাসপাতালে চিকিৎসার ত্রুটির কারণে তিন বছরের মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত শিশুর নাম প্রিয়াকা মুখুপা ধ্যায়। তার বাড়ি রানিগঞ্জের সিয়ারসোল এলাকায়।
পরিবারের অভিযোগ, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে প্রিয়াঙ্কাকে প্রচণ্ড জ্বর ও বমির উপসর্গ নিয়ে হেলথ ওয়ার্ল্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা তাকে পরীক্ষা করে অক্সিজেন সাপোর্টে রাখেন। কিন্তু এরপর থেকেই শুরু হয় গাফিলতির অভিযোগ।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শিশুটি বারবার পানি চাইলে চরম অস্থির হয়ে পড়ে। কিন্তু হাসপাতালের কর্মীরা তাকে মৃত ভেবে পানি দিতে অস্বীকার করেন। অভিযোগে বলা হয়, শনিবার সকালে রক্ত পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পরই চিকিৎসা ও ওষুধ দেওয়া শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। ফলে রাতভর শিশুটিকে কোনো ওষুধ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে শিশুটির শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে উঠলে কিছুক্ষণের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর অভিযোগ উঠলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিবারকে জোর করে বের করে দেয় এবং প্রবেশে বাধা দেয়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে শিশুটির স্বজন ও প্রতিবেশীরা হাসপাতালের বাইরে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা শিশুটির লাশ দেখাতে এবং রাত থেকে সকাল পর্যন্ত কী কী চিকিৎসা ও ওষুধ দেওয়া হয়েছে তার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ দাবি করেন। বিক্ষোভকারীরা চিকিৎসক ও হাসপাতালের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
পরিবার ও হাসপাতালের কর্মীদের আরও অভিযোগ আড়াল করতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তদের নিরাপত্তা দিচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য স্তরের নেতা কৃষ্ণান্দু মুখোপা ধায়া বলেন, "স্বাস্থ্য বিশ্ব হাসপাতালকে ডাক্তারের বদলে বাউন্সারের মতো দেখাচ্ছিল। হাসপাতালটি শাসক দলের কিছু নেতার প্রভাবে এবং সেই কারণেই একের পর এক অনিয়ম ঘটছে।" তিনি বলেন, দলটি নিহত শিশুর পরিবারের পাশে আছে এবং সব ধরনের সহযোগিতা করবে।

ঘটনার পরই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।