আসন্ন শারদোৎসবে সার্বিক নিরাপত্তা, আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ সুনিশ্চিত করতে দুর্গাপুরে আয়োজিত হলো এক সুবিশাল দুর্গাপুজো সমন্বয় সভা। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের (ADPC) উদ্যোগে দুর্গাপুরের বিখ্যাত ‘সৃজনী প্রেক্ষাগৃহে’ আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকটিতে দুর্গাপুর মহকুমা ও সংলগ্ন এলাকার প্রায় ২০১টি দুর্গাপুজো কমিটির প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। উৎসবের দিনগুলিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং শহরজুড়ে পুজো পরিক্রমা যাতে আনন্দদায়ক ও মসৃণ হয়, সেই লক্ষ্যেই পুলিশ ও প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর যৌথভাবে এই উদ্যোগ নেয়।
উক্ত সমন্বয় সভায় উপস্থিত ছিলেন দুর্গাপুর পশ্চিমের বিধায়ক লক্ষ্মণ চন্দ্র গড়ুই, দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়, আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি (পূর্ব), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, বিভিন্ন থানার ওসি, ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা। এছাড়া দমকল বিভাগ, রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদ (WBSEDCL), দুর্গাপুর নগর নিগম (DMC) এবং স্বাস্থ্য দপ্তরের শীর্ষ প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে দুর্গাপুর শহর ছাড়াও সংলগ্ন বাকুড়া, বীরভূম এবং বর্ধমানের বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে বহু দর্শনার্থীর আগমন ঘটে। ফলে পুজো মণ্ডপগুলিতে উপচে পড়া ভিড় এবং রাস্তায় যান চলাচলের বিপুল চাপ তৈরি হয়। সভায় পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্লাব ও পুজো কমিটিগুলির জন্য বেশ কিছু আবশ্যিক নির্দেশিকা জারি করা হয়:
১. নিরাপত্তা ও সিসিটিভি নজরদারি: প্রতিটি বড় পুজো মণ্ডপে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে সার্বিক যোগাযোগ বজায় রাখতে বলা হয়েছে।
২. ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও পার্কিং: শহরের প্রধান সড়কগুলিতে যাতে যানজট তৈরি না হয়, তার জন্য নির্দিষ্ট পার্কিং জোন চিহ্নিত করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলিতে ‘নো-এন্ট্রি’ জোন এবং ওয়ান-ওয়ে ট্রাফিক ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। মণ্ডপ সংলগ্ন রাস্তায় অপ্রয়োজনীয় গাড়ি পার্কিং সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
৩. স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন: পুজো কমিটিগুলিকে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুরুষ ও নারী স্বেচ্ছাসেবক (Volunteer) মোতায়েন করতে বলা হয়েছে, যাদের জ্যাকেট ও পরিচয়পত্র প্রদান করা বাধ্যতামূলক। পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকরা যৌথভাবে ভিড় সামলানোর কাজ করবেন।
৪. অগ্নিনিরাপত্তা ও জরুরি ব্যবস্থা: মণ্ডপ তৈরিতে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা মেনে চলা, পর্যাপ্ত ফায়ার এক্সটিঙ্গুইশার রাখা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বের হওয়ার জন্য উন্মুক্ত জরুরি পথ (Emergency Exit) রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৫. পরিবেশ সুরক্ষা ও আইনি বিধি: রাজ্য পরিবেশ আদালতের নির্দেশ মেনে উচ্চ শব্দমাত্রার ডিজে বা সাউন্ড সিস্টেম নিষিদ্ধ রাখা এবং পরিবেশবান্ধব সামগ্রী ব্যবহারে উৎসাহিত করা হয়েছে।
সভায় উপস্থিত জনপ্রতিনিধিরা প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং পুজো কমিটিগুলিকে সরকারি নির্দেশিকা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলার আহ্বান জানান। একক জানোলা (Single Window System) ব্যবস্থার মাধ্যমে পুজো কমিটিগুলি যাতে দ্রুত বিদ্যুৎ, দমকল ও পুলিশের ছাড়পত্র পায়, তারও সুব্যবস্থা করা হয়েছে বলে সভার মাধ্যমে জানানো হয়। পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের আশা, এই যৌথ উদ্যোগ ও প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে দুর্গাপুরে এবারের দুর্গাপুজো সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল এবং উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হবে।
পশ্চিম বর্ধমান
শান্তিপূর্ণ ও যানজটমুক্ত পুজো উপহার দিতে তৎপর আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট

Nirbhik Bangla Photo
ট্যাগসমূহ:Nirbhikbangla
