Nirbhik Bangla
ব্রেকিং নিউজ

সাইবার অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয় হবে না আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল, হুঙ্কার পুলিশের

নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ০৮:০৮ AM
WhatsApp
সাইবার অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয় হবে না আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল, হুঙ্কার পুলিশের
Nirbhik Bangla Photo
বরাকরের দাসপাড়া ও হাসপাতাল রোডে সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের মেগা অভিযান: এসিপি জাবেদ হোসেনের নেতৃত্বে চিরুনি তল্লাশি, উদ্ধার বহু নথিপত্র

বরাকর:
শিল্পাঞ্চল আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই সাইবার অপরাধের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক সক্রিয় হয়ে ওঠার অভিযোগ উঠছিল। সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এই অপরাধ চক্রের মূল উপড়ে ফেলতে এবার অত্যন্ত কঠোর ও কঠোরতম পদক্ষেপ গ্রহণ করল প্রশাসন। শনিবার ভোরে গোপন সূত্রের মাধ্যমে পাওয়া অত্যন্ত সংবেদনশীল ও নির্দিষ্ট খবরের ভিত্তিতে বরাকর ফাঁড়ি এলাকার অন্তর্গত জনবহুল দাসপাড়া এবং সংলগ্ন হাসপাতাল রোড অঞ্চলে একযোগে এক বিশাল সাইবার দমন অভিযান চালায় পুলিশ। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের সহকারী পুলিশ কমিশনার (কুলটি) জাবেদ হোসেনের সরাসরি পর্যবেক্ষণ ও নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে অংশ নেয় বিশাল পুলিশ বাহিনী, র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF) এবং সাইবার ক্রাইম থানার বিশেষ টেকনিক্যাল টিম।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক মাস ধরেই দাসপাড়া ও হাসপাতাল রোড এলাকার বেশ কয়েকজন স্থানীয় যুবকের জীবনযাত্রার মান, বিলাসবহুল চালচলন ও অস্বাভাবিক আর্থিক বৃদ্ধি নিয়ে এলাকার মানুষের মনে তীব্র সন্দেহ দানা বাঁধছিল। গোয়েন্দা সূত্রে অভিযোগ আসে, আন্তর্জাতিক ও আন্তঃরাজ্য সাইবার অপরাধীদের সাথে সরাসরি হাত মিলিয়ে এই যুবকরা সাধারণ সহজ-সরল মানুষকে টার্গেট করত। ব্যাংক আধিকারিক বা টেলিযোগাযোগ সংস্থার কর্মী সেজে ফোন করে ওটিপি হাতিয়ে নেওয়া, লটারির মিথ্যা লোভ দেখানো, লোভনীয় ভুয়ো অনলাইন লোন অ্যাপের ফাঁদ পাতা এবং ঘরে বসে সহজে পার্ট-টাইম চাকরির লোভ দেখিয়ে সর্বস্বান্ত করা হতো সাধারণ মানুষকে। প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া এই বিপুল পরিমাণ অর্থ তৎক্ষণাৎ একাধিক ভুয়ো বা 'মিউল' ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরিয়ে ফেলা হতো, যেগুলির বেশিরভাগই অন্য ব্যক্তিদের নামে নথি জাল করে খোলা হয়েছিল।

এই খবরের সত্যতা পুরোপুরি যাচাই করার পরই শনিবার ভোরে আকস্মিকভাবে পুরো এলাকা সম্পূর্ণ ঘিরে ফেলে পুলিশ বাহিনী। এলাকার প্রতিটি সন্দেহভাজন গলি, আবাসিক চত্বর ও বাড়িতে একযোগে শুরু হয় চিরুনি তল্লাশি। হঠাৎ এই অভিযানে অপরাধ জগতের সাথে যুক্ত চক্রের সদস্যরাও হতচকিত হয়ে পড়ে।

অভিযান চলাকালীন পুলিশ আধিকারিকরা সন্দেহভাজনদের বাড়িতে প্রবেশ করে বিভিন্ন অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক গ্যাজেট, ল্যাপটপ এবং নথি অত্যন্ত গভীরভাবে খতিয়ে দেখেন। দীর্ঘ তল্লাশিতে বেশ কিছু উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন স্মার্টফোন, ভুয়ো পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে সংগৃহীত বিপুল সংখ্যক প্রাক-সক্রিয় (Pre-activated) সিম কার্ড, বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংকের অসংখ্য পাসবই, চেক বই এবং একাধিক ডেবিট-ক্রেডিট কার্ড বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। অপরাধীরা যাতে সহজে ধরা না পড়ে, সেই জন্য এই সমস্ত ভুয়ো নথি ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে। সাইবার ক্রাইম বিভাগের বিশেষ দল ঘটনাস্থলেই ডিভাইসগুলির আইপি অ্যাড্রেস, কল ডিটেইলস রেকর্ড (CDR) এবং সন্দেহজনক ট্রানজ্যাকশন হিস্ট্রি খতিয়ে দেখার প্রাথমিক কাজ শুরু করে।

সাতসকালে হঠাৎ পুরো এলাকা ঘিরে এমন নজিরবিহীন ও আকস্মিক পুলিশি অভিযানে বরাকরের দাসপাড়া ও হাসপাতাল রোড এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। সকাল হতেই ঘুম ভাঙতেই স্থানীয় বাসিন্দারা দেখেন চারদিক পুলিশে ছয়লাপ। ঘরের বাইরে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়। অত্যন্ত শান্ত ও ঘনবসতিপূর্ণ এই আবাসিক এলাকায় কীভাবে এত বড় একটি সাইবার প্রতারণাচক্র দিনের পর দিন প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে নিজস্ব সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল, তা জানতে পেরে স্তম্ভিত ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন স্থানীয় অধিবাসীরাও।

এই সফল ও চাঞ্চল্যকর অভিযান প্রসঙ্গে এসিপি (কুলটি) জাবেদ হোসেন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে স্পষ্ট ভাষায় জানান, সাইবার অপরাধীদের কোনোভাবেই লেশমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। শিল্পাঞ্চলের এই জনপদকে কোনো অবস্থাতেই কোনো অপরাধ চক্রের 'সেফ জোন' বা নিরাপদ আশ্রয় হতে দেওয়া হবে না। তিনি আরও জোরালোভাবে বলেন, এই অপরাধ নেটওয়ার্কের শিকড় ঠিক কতদূর বিস্তৃত এবং এই চক্রের পেছনে ভিনরাজ্যের কোনো গ্যাং বা আন্তর্জাতিক কোনো যোগসাজশ রয়েছে কি না, তা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে গভীরভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বাজেয়াপ্ত হওয়া সমস্ত নথি ও ডিজিটাল যন্ত্রাংশের ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষার ওপর ভিত্তি করে আগামী দিনে আরও একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠানো হতে পারে এবং এই চক্রের মূল পান্ডাদের খুব শীঘ্রই আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
ট্যাগসমূহ:Nirbhikbangla
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক, নির্ভীক বাংলা।

WhatsApp
১২ মন্তব্য
সাইবার অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয় হবে না আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল, হুঙ্কার পুলিশের | নির্ভীক বাংলা