আসানসোলের মনোজ সিনেমা হলের নিকট সোমবার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার জেরে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এদিন সন্ধ্যায় একাধিক মহিলা একত্রিত হয়ে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিছুক্ষণের মধ্যেই অবশ্য সেই অবরোধ তুলে নেওয়া হয়, তবে এর নেপথ্যে থাকা অভিযোগের বহর ছিল যথেষ্ট গুরুতর। বিক্ষোভকারীদের নিশানায় ছিলেন বেবী সরকার নামক এক মহিলা। তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, সাধারণ মানুষকে হুমকি দেওয়া এবং আর্থিক প্রতারণার মতো একাধিক ক্ষোভ উগরে দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিক্ষোভের জেরে এলাকায় দীর্ঘক্ষণ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দেয়।
অভিযোগ উঠেছে যে, অভিযুক্ত বেবী সরকার নিজেকে এক প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করতেন। বিশেষ করে, তিনি দাবি করতেন যে তিনি মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের বাড়িতে কাজ করেন। এই পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে তিনি এলাকায় সাধারণ মানুষকে নানাবিধ ভয় দেখাতেন এবং ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বহু মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে বা বিশ্বাসের বশে ওই মহিলাকে টাকা ধার দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে যখন সেই পাওনা টাকা ফেরত চাওয়া হতো, তখন উলட்டো তাঁদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর বা সরাসরি হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠত ওই মহিলার বিরুদ্ধে।
এই ঘটনার পেছনের ভয়াবহতা কতটা গভীর, তা স্পষ্ট হয় এক স্থানীয় বাসিন্দার স্ত্রীর অভিযোগে। তাঁর স্বামী বেবী সরকারকে টাকা ধার দিয়েছিলেন। কিন্তু টাকা ফেরত চাওয়ার পর উলটো তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মতো গুরুতর মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করা হয়, যার জেরে তাঁকে থানায় বন্দি থাকতে হয় এবং পরবর্তীকালে জামিন পান তিনি। ওই ব্যক্তির স্ত্রীর কণ্ঠে এদিন ক্ষোভ ও কান্নার রোল শোনা যায়। তিনি বেবী সরকারের কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এমন হয়রানির শিকার না হন।
পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ ধারণ করে যখন অপর এক বৃদ্ধার করুণ কাহিনী সামনে আসে। অভিযোগ উঠেছে, ওই বৃদ্ধার ছেলে বেবী সরকারকে ৮০,০০০ টাকা ধার দিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে সেই ছেলে এবং তাঁর মেয়ে দুজনেই প্রয়াত। সংসারের হাল ধরতে এবং এতিম নাতি-নাতনিদের মুখের দিকে তাকিয়ে বৃদ্ধা যখন সেই পাওনা টাকা ফেরত চাইতে যান, তখন তাঁকে মারধর পর্যন্ত করা হয় বলে অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও বিস্ফোরক দাবি, অতীতে এই বেবী সরকার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের তোলাবাজি চক্রের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু রাজনৈতিক পালাবদলের হাওয়ায় এবং বর্তমানে রাজ্যে রাজনৈতিক সমীকরণ পরিবর্তনের সুবাদে তিনি ভোল বদলে এখন ভিন্ন রাজনৈতিক দল বা মন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করছেন। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, পুলিশ প্রশাসনের কাছে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দায়ের করা সত্ত্বেও কেন এখনও পর্যন্ত কোনো কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা হলো না? কোন অদৃশ্য শক্তির অদৃশ্য ছাতায় ওই মহিলা বারবার পার পেয়ে যাচ্ছেন, তা নিয়েও তীব্র গুঞ্জন শুরু হয়েছে স্থানীয় মহলে।
ঘটনার জেরে এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাওয়ায় পুলিশ প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের পক্ষ থেকে বিক্ষোভকারীদের আশ্বস্ত করা হয়েছে যে পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিক্ষোভকারীদের দাবির ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুত করা হয়েছে। 'নির্ভীক বাংলা' এই ঘটনার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করেনি। অভিযুক্ত বেবী সরকার বা তাঁর পক্ষের কোনো বক্তব্য এই মুহূর্তে আমাদের কাছে এসে পৌঁছায়নি। পাশাপাশি, এই ঘটনায় নাম জড়ানো মন্ত্রী বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের প্রতিক্রিয়াও এখনও পাওয়া যায়নি। নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে আমরা উভয় পক্ষের বক্তব্য পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছি। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার নেপথ্যের আসল সত্য উদঘাটন করতে এবং পরবর্তী সমস্ত আপডেট ও তথ্যের জন্য চোখ রাখুন 'নির্ভীক বাংলা'-র পাতায়।
ব্রেকিং নিউজ
টাকা ধার চাওয়ায় মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ! আসানসোলে উত্তপ্ত মনোজ মোড় এলাকা

Nirbhik Bangla Photo
ট্যাগসমূহ:Nirbhikbangla
