বাগেশ্বর ধামের বিতর্কিত বাবা ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রীর নানা মন্তব্য এবং তার জেরে উদ্ভূত পরিস্থিতি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে পারদ চড়ছে ক্রমশ। এই বিতর্কিত ইস্যুকে কেন্দ্র করে একদিকে যখন রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে, ঠিক তখনই বাগেশ্বর বাবার সমালোচনা করার বদলে সরাসরি হনুমানজীকে অপমান করার এক আজব ও ভিত্তিহীন অজুহাতে এক সাধারণ নাগরিককে গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কংগ্রেস নেতৃত্ব। এই পুলিশি গ্রেপ্তারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং বর্তমান রাজ্য সরকারের কার্যপ্রণালী ও নিরপেক্ষতা নিয়ে একরাশ প্রশ্ন তুলে দিয়েছে হাত শিবির।
শনিবার সকালে এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং এর বিরুদ্ধে সরব হয়ে প্রদেশ কংগ্রেসের জেলা সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তীর নেতৃত্বে স্থানীয় জেলা আদালত চত্বরে অবস্থিত মহাত্মা গান্ধীর মূর্তির পাদদেশে একটি জোরালো বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। বাগেশ্বর বাবার সাম্প্রতিক বিতর্কিত ও উস্কানিমূলক বিভিন্ন বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাতেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল বলে কংগ্রেসের তরফে জানানো হয়। বিক্ষোভ প্রদর্শন শেষেই থেমে থাকেননি জেলা সভাপতি, তিনি সোজা চলে যান আদালতে এবং পুলিশি হেনস্থার শিকার হওয়া ধৃত কংগ্রেস কর্মীকে সমস্ত আইনি সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন।
এই পুরো বিষয়ে নিজেদের ক্ষোভ উগরে দিয়ে কংগ্রেস নেত্রী তথা বিশিষ্ট আইনজীবী শম্পা সরকার সরাসরি আক্রমণ শানান স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে। তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে অভিযোগ করেন যে, অতীতেও পুলিশ প্রশাসন যেভাবে রাজনৈতিক স্বার্থে ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গুলিহেলনে কাজ করত, বর্তমান কালেও তার বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হয়নি। বর্তমান শাসকদলের দলদাস হিসেবেই কাজ করছে পুলিশ। কোনো ধরনের শক্তপোক্ত আইনি প্রমাণ বা জোরালো ভিত্তি ছাড়াই সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত ভুয়ো মামলায় সাধারণ মানুষকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ তোলেন তিনি।
ঘটনার একটি দীর্ঘ ও বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরে শম্পা সরকার জানান, গত ৯ সেপ্টেম্বর দলের নির্দিষ্ট নির্দেশেই জেলা প্রদেশ কমিটির সদস্য প্রসেনজিৎ পুইতুন্ডি বাগেশ্বর ধামের প্রধানের বিতর্কিত মন্তব্যের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করতে থানায় গিয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জানাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু অত্যন্ত পক্ষপাতদুষ্ট ও একপেশে মনোভাব নিয়ে পুলিশ সেই এফআইআর বা লিখিত অভিযোগ গ্রহণ তো দূরে থাক, তা সম্পূর্ণ বাতিল করে দেয়। অথচ, ঠিক তার পরের দিনই বিজেপির যুব মোর্চার কর্মীরা থানায় গিয়ে এক অদ্ভুত ও কল্পিত পাল্টা এফআইআর দায়ের করেন। তাদের হাস্যকর যুক্তি ছিল, কংগ্রেস নাকি সরাসরি বাগেশ্বর বাবাকে নয়, বরং হিন্দুদের আরাধ্য দেবতা স্বয়ং হনুমানজীকে অপমান করেছে। পুলিশ এই flimsy বা ঠুনকো অজুহাতকে হাতিয়ার করে অত্যন্ত তড়িঘড়ি এক সাধারণ মানুষকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠায়।
বিজেপির এই দ্বিমুখী নীতির তীব্র সমালোচনা করে কংগ্রেস নেত্রী আরও কটাক্ষ করে বলেন, বিজেপির যুব মোর্চার কর্মীরা মুখে যাই বলুন না কেন এবং বাগেশ্বর বাবার সমস্ত অযৌক্তিক নিদান বা নির্দেশ প্রকাশ্য না মানার ভান করলেও, সেদিন সেই বিতর্কিত অনুষ্ঠানে বাগেশ্বর বাবার গলায় হনুমানজির লকেট ঝুলাবার মতো তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে তারা হনুমানজী অপমানের অভিযোগ এনে এফআইআর করেছে। তিনি এই পুরো পুলিশি তৎপরতাকে এক অবাস্তব দৃশ্যের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, এ যেন ছোটবেলায় পরীক্ষায় 'বর্ষার রচনা'র বদলে না পেরে 'গরুর রচনা' লেখার মতো সম্পূর্ণ অবাস্তব এবং হাস্যকর এক চিত্রনাট্য তৈরি করেছে পুলিশ ও বিজেপি।
উল্লেখ্য, বাগেশ্বর বাবার এই ধরনের বিতর্কিত ও উস্কানিমূলক মন্তব্যের জেরে ইতিমধ্যেই সারা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যজুড়ে তীব্র প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বুদ্ধিজীবী মহল এবং একাধিক সামাজিক সংগঠন এর কঠোর প্রতিবাদ জানাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস নেতৃত্বের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, এ ধরনের চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত বা সমাজের মেরুকরণের রাজনীতি পশ্চিমবঙ্গের সচেতন ও ধর্মনিরপেক্ষ জনগণ কখনোই মেনে নেবে না। আগামী দিনে এর বিরুদ্ধে আন্দোলনের ঝাঁঝ আরও বাড়বে। প্রশাসন যদি এভাবেই তাদের পক্ষপাতমূলক আচরণ ও দলীয় দাসত্ব চালিয়ে যায়, তবে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আরও বৃহত্তর ও তীব্র আন্দোলনের পথে হাঁটবে কংগ্রেস।
ব্রেকিং নিউজ
প্রশাসন শাসকদলের অঙ্গুলিহেলনে চলছে, ভুয়ো মামলায় গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে আদালতের সামনে কংগ্রেসের বিক্ষোভ

Nirbhik Bangla Photo
ট্যাগসমূহ:Nirbhikbangla
