দুর্গাপূজাকে ঘিরে হীরাপুরে পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে প্রশাসনের মেগা সমন্বয় বৈঠক, জোর নিরাপত্তা ও যান নিয়ন্ত্রণে
আসানসোল: বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব শারদোৎসবকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। উৎসবের দিনগুলিতে আসানসোল শিল্পাঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, লাখো লাখো দর্শনার্থীর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সমন্বয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। শুক্রবার বার্নপুরের ঐতিহ্যবাহী ভারতী ভবন প্রেক্ষাগৃহে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের হীরাপুর থানার উদ্যেগে এই উচ্চপর্যায়ের সভার আয়োজন করা হয়। হীরাপুর থানা এলাকার সমস্ত ছোট-বড় দুর্গাপূজা কমিটির প্রতিনিধি ও উদ্যোক্তারা এদিনের বৈঠকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে উপস্থিত ছিলেন।
উক্ত পর্যালোচনা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল, বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কৃষ্ণেন্দু মুখার্জি, আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিকবৃন্দ, আসানসোল পৌরনিগমের বিশিষ্ট প্রতিনিধিরা, দমকল বিভাগ এবং রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা। মূলত প্রশাসন এবং পুজো কমিটির মধ্যে একটি নিবিড় সেতু বন্ধন তৈরি করতেই এই সভার আয়োজন করা হয়েছিল।
বৈঠকে রাজ্য সরকার নির্দেশিত দুর্গাপূজার সার্বিক নিয়মাবলী ও নীতি-নির্দেশিকা নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। বিশেষ করে প্যান্ডেল বা মণ্ডপ নির্মাণে মজবুত ও নিরাপত্তা বিধি মেনে চলা, অগ্নিকাণ্ড রোধে পর্যাপ্ত জরুরি বেরোনোর পথ (Emergency Exit) রাখা, পর্যাপ্ত পরিমাণে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের উপস্থিতি সুনিশ্চিত করা এবং মণ্ডপ ও তার আশপাশের চত্বরে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। এছাড়া, মহাসপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত পুজো দিনগুলিতে অতিরিক্ত ভিড় সামলানো, সুনির্দিষ্ট গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা, উচ্চ শব্দযুক্ত নিষিদ্ধ শব্দবাজি ও মাত্রাতিরিক্ত ডিজে সাউন্ড ব্যবহারের ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা এবং নির্ধারিত সময়ে প্রতিমা নিরঞ্জনের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে অত্যন্ত স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, পুজো কমিটিগুলির উদ্যোক্তারাও মণ্ডপ সংলগ্ন এলাকার ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট দ্রুত মেরামত করা, প্যান্ডেলের আশপাশে পর্যাপ্ত পথবাতি বা আলোর ব্যবস্থা করা, উৎসবের দিনগুলিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং দর্শনার্থীদের জন্য বিশুদ্ধ পানীয় জলের সুবিধা সংক্রান্ত বিভিন্ন স্থানীয় সমস্যা ও দাবির কথা প্রশাসনের কাছে তুলে ধরেন। উপস্থিত পৌরনিগম ও বিদ্যুৎ পর্ষদের প্রতিনিধিরা পুজো উদ্যোক্তাদের কথা মনোযোগ সহকারে শুনে দ্রুত এই সমস্ত সমস্যাগুলি সমাধানের আশ্বাস দেন। পাশাপাশি, 'সিঙ্গেল উইন্ডো' বা একক উইন্ডো ব্যবস্থার মাধ্যমে পুজো কমিটিগুলিকে সমস্ত ধরনের আইনি জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমতি দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়।
এদিনের বৈঠকে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা যৌথভাবে পুজো কমিটিগুলিকে আইন মেনে চলার পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান এবং প্রতিটি মণ্ডপে ভিড় নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত সংখ্যক প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক (ভলান্টিয়ার) মোতায়েন রাখার পরামর্শ দেন। উৎসবের দিনগুলিতে যেকোনো অনভিপ্রেত বা জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক সহায়তা পৌঁছাতে পুলিশ ও প্রশাসনের বিশেষ কন্ট্রোল রুম ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় থাকবে বলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়। সব মিলিয়ে, হীরাপুর শিল্পাঞ্চলে একটি সর্বাঙ্গীন সুন্দর, নিরাপদ, আনন্দময় ও শান্তিপূর্ণ উৎসব উপহার দিতে প্রশাসন ও পুজো কমিটিগুলি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একযোগে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।
আসানসোল
মণ্ডপের নিরাপত্তা ও যানজট এড়াতে আসানসোলে একমঞ্চে প্রশাসন ও পুজো কমিটিগুলি

Nirbhik Bangla Photo
ট্যাগসমূহ:Nirbhikbangla
