আসানসোলের হিরাপুর থানার অন্তর্গত খরমবাঁধ এলাকায় অবৈধভাবে মজুত করা কয়লার বিরুদ্ধে এক বড়সড় সাফল্য পেল যৌথ বাহিনী। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অবৈধ কারবারের বিরুদ্ধে গোপন সূত্রে সুনির্দিষ্ট খবর পেয়েছিল প্রশাসন। সেই খবরের ভিত্তিতে সিআইএসএফের (CISF) শীতলপুর টিম, সংশ্লিষ্ট এলাকার সিআইএসএফ জওয়ান এবং ইসিএলের (ECL) নিরাপত্তা রক্ষীরা যৌথভাবে এক আকস্মিক অভিযান চালান। এই সফল অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২০ থেকে ২৫ টন অবৈধ কয়লা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তবে যৌথ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই টের পেয়ে যাওয়ায়, চতুর পাচারকারীরা অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে চম্পট দেয়। যার ফলে অভিযান চলাকালীন তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
প্রাথমিক তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। তদন্তকারীদের অনুমান, দীর্ঘদিন ধরেই এই নির্দিষ্ট এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র অবৈধ কয়লার কারবার চালিয়ে যাচ্ছে। বাজেয়াপ্ত করা বিপুল পরিমাণ এই কয়লার আনুমানিক বাজারমূল্য যথেষ্ট বেশি। এই বিশাল পরিমাণ কয়লা ঠিক কোন কোন অবৈধ খনি বা উৎস থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং কোথায়, কোন অসদুপায়ে তা পাচার করার পরিকল্পনা ছিল, তা এখন গভীরভাবে খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। শুধু তাই নয়, এই কয়লা পাচার চক্রের সঙ্গে আর কারা কারা যুক্ত রয়েছে, তাদের চিহ্নিত করতে এবং এই অবৈধ কারবারের মূল হোতাদের পাকড়াও করতে বর্তমানে স্থানীয় থানা, পুলিশ ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী যৌথভাবে চিরুনি তল্লাশি ও জোরদার তদন্ত শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে আসানসোল এবং তার আশেপাশের সমগ্র কয়লা সমৃদ্ধ শিল্পাঞ্চলে অবৈধ কয়লার কারবার ও পাচার পুরোপুরি দমনে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে জেলা প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী। খনি অঞ্চলগুলিতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রুখতে ইসিএলের খনি এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা নজরদারি বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের সহযোগিতা এবং প্রশাসনের এমন লাগাতার ও কড়া পদক্ষেপে অসাধু কয়লা মাফিয়া চক্রগুলি আগামী দিনে আরও কোণঠাসা হয়ে পড়বে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল ও বিশেষজ্ঞ মহল।
অপরাধ
গোপন সূত্রে খবর, আসানসোলের হিরাপুরে উদ্ধার বিপুল পরিমাণ অবৈধ কয়লা

Nirbhik Bangla Photo
ট্যাগসমূহ:Nirbhikbangla
