আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটায় রাজনৈতিক সংঘর্ষের এক নক্কারজনক ঘটনায় ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে স্থানীয় রাজনীতি। ফালাকাটা ৩ নম্বর এরিয়া কমিটির অন্তর্গত বড়ডোবা সংলগ্ন জামতলা বাজারে সিপিআই(এম)-এর একটি পূর্বনির্ধারিত পথসভা চলাকালীন অতর্কিত হামলা চালায় স্থানীয় বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। অভিযোগ, সম্পূর্ণ উস্কানিহীনভাবে এই হামলা চালানো হয় এবং সভায় থাকা চেয়ার, টেবিল সহ সমস্ত সামগ্রী ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। এই নৃশংস হামলায় সিপিআই(এম)-এর একাধিক নেতাকর্মী গুরুতর জখম হন এবং তাঁদেরকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন সারাভারত কৃষক সভার ফালাকাটা ব্লক কমিটির সম্পাদক কমরেড ঈশ্বর রায়, যাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে এবং তাঁর মাথা ফেটে রক্তক্ষরণ হয়। প্রসঙ্গত, কমরেড ঈশ্বর রায়ের ওপর রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর প্রায় ১৫ বছর আগে, রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের সময়েও তাঁকে তৃণমূল কংগ্রেসের দুষ্কৃতীদের দ্বারা নির্মম আক্রমণের শিকার হতে হয়েছিল। সেই সময় তাঁর হাত ও পা ভেঙে দেওয়া হলেও মৃত্যুর মুখ থেকে অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে ফিরেছিলেন তিনি। দীর্ঘ দেড় দশক পরেও রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ফের তাঁর ওপর নেমে এল ভীরু আক্রমণ।
শুধু ঈশ্বর রায়ই নন, রবিবারের এই পরিকল্পিত হামলায় আরও বেশ কয়েকজন বামপন্থী নেতা-কর্মী গুরুতর জখম হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন ডিওয়াইএফআই-এর আলিপুরদুয়ার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কমরেড দীপক বর্মন, গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির নেত্রী নমিতা বর্মন এবং স্থানীয় সিপিআই(এম) নেতা কমরেড হরেকৃষ্ণ মন্ডল। সকলের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জেলা সিপিআই(এম) নেতৃত্ব। বিরোধী দলের কণ্ঠস্বর রোধ করতেই এই ধরনের সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বাম নেতৃত্ব। ঘটনার রাতেই আক্রান্তদের পরিবারের সদস্য ও দলীয় কর্মীদের পক্ষ থেকে ফালাকাটা থানায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করে এফআইআর করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত মূল অভিযুক্তদের কাউকেই গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফালাকাটা জুড়ে তীব্র অসন্তোষ ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
রাজনীতি
১৫ বছর আগে আক্রমণের শিকার বাম নেতার ওপর ফের হামলা, ফালাকাটায় রাজনৈতিক সংঘর্ষে আহত একাধিক

